যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করেনি, তার কোনো মানবিকতা নেই: মিসর কোচ

ফুটবল যে শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি মানবিকতা ও বার্তা দেওয়ার মাধ্যম হতে পারে, সেটাই যেন মনে করিয়ে দিচ্ছেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান। চলমান বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এর ম্যাচে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর পর হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা তুলে ধরেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার রাতে আবারও খেলতে নামবে মিসর। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্টে টিকে থাকার এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেও ফিলিস্তিনের কথা ভুলে যাননি হাসান। ফিলিস্তিনের মানুষের দুর্ভোগকে ‘বিশ্বের জন্য লজ্জার বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনের সহায়তায় ফুটবলকে আরও বড় অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মিসর কোচ।

আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেছেন, ‘যে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট অনুভব করেনি, তার কোনো মানবিকতা নেই।’

ফিলিস্তিনের জনগণের দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, এটা আমাদের জন্য লজ্জার। শুধু আরব বিশ্বের জন্যই নয়, এটা পুরো বিশ্বের জন্যই লজ্জার বিষয়। সবার জন্যই এটা লজ্জার। বিশেষ করে সেইসব সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য, যারা মানুষকে এভাবে পেছনে ফেলে রাখেন।’

মিসর কোচের এমন মন্তব্যের পর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেক সাংবাদিক করতালি দিয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। অবশ্য হাসান সেখানেই থামেননি। ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়াতে ফিফা ও ফুটবলারদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

হাসান বলেছেন, ‘আমার বার্তা হবে— ফুটবলকে শান্তিপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করুন। আমি আপনাদের সবাইকে, গণমাধ্যমকে এবং বিশ্বের সব ক্রীড়াবিদকে আহ্বান জানাই, পরিচয় যা-ই হোক না কেন, আমরা সবাই মিলে বার্তাটি পৌঁছে দিতে পারি।’

কোন বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান, সেটাও জানিয়েছেন মিসর কোচ, ‘বার্তাটি হচ্ছে, ফিলিস্তিনি জনগণকে বাঁচতে দিন, তাদের অস্তিত্বকে স্বীকার করুন, তাদের নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করতে দিন। এটাই স্বাভাবিক।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় নারী ও শিশুসহ এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।