ফ্রান্সের কোচ হলেন জিদান

বিশ্বকাপের পর থেকে যে গুঞ্জন চলে আসছিল, অবশেষে তা-ই সত্যি হলো। ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হলেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। আজ (মঙ্গলবার) ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন জিদানের সঙ্গে চার বছরের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে।

ফ্রান্সের সাবেক অধিনায়ক ও ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা দিদিয়ের দেশমের উত্তরসূরি হয়ে জানিয়েছেন, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর ইচ্ছাকৃতভাবেই কোনো ক্লাবের দায়িত্ব নেননি, কারণ জিদানের একমাত্র লক্ষ্যই ছিল ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়া।

কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবাদিকদের জিদান বলেন, ‘ফরাসি জাতীয় দলই ছিল একমাত্র দল, যেটিকে আমি কোচিং করাতে চেয়েছি। আমি সবসময় নিজেকে এই দলের ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে কল্পনা করেছি। দেশম দায়িত্বে থাকাকালীন আমি চাইলে তিন বছরের জন্য অন্য কোনো দলের কোচ হতে পারতাম। তিনি (দেশম) ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিজের সিদ্ধান্ত জানান, আর পরদিনই আমার মনে হয়েছে পরবর্তী কোচ আমিই হবো। এরপর সভাপতির (ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন) সঙ্গে বৈঠক হয় এবং চুক্তি চূড়ান্ত হয়।।’ 

৫৪ বছর বয়সী জিদান তুরস্কের বিপক্ষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশনস লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচিং অধ্যায় শুরু করবেন। এরপর ২ অক্টোবর ঘরের মাঠে ইতালির বিপক্ষে প্রথম হোম ম্যাচে মাঠে নামবে তার দল।

দিদিয়ের দেশম ১৪ বছর ফ্রান্সের দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনে ফ্রান্স ২০১৮ বিশ্বকাপ, ২০২০-২১ উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা নিজেদের করেছে। সেই সঙ্গে ইউরো ২০১৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালেও ওঠেছে ফরাসিরা।

ফ্রান্সের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে জিদান ১০৮টি ম্যাচে ৩১টি গোল ও ২৯টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম নায়ক এবং একই বছর জয় করেন মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি'অর।

কোচ হিসেবেও জিদানের সাফল্য অনেক। ২০১৬ সালে রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হওয়ার পর টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। পরে দ্বিতীয় দফায় ক্লাবটির দায়িত্ব নিয়ে আরও একটি লা লিগা শিরোপা জেতান।

নতুন দায়িত্বের পর নিজের পরিকল্পনা নিয়ে জিদান বলেন, ‘খুব শিগগিরই সবাই আমার ফুটবল দর্শন দেখতে পাবেন। আমি আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করি এবং জয়ের মানসিকতা নিয়েই কাজ করতে চাই। আমি আমার নিজস্ব গতিতে দলকে এগিয়ে নিতে চাই। ধারাবাহিকভাবে ফ্রান্সকে জয়ের পথে রাখাই আমার লক্ষ্য।’