রোনালদোর বিয়ে কবে–কোথায়, থাকছে কী কী চমক?

১০ বছরের সম্পর্ক। অবশেষে পরিণয়ের অপেক্ষায়। ঘণ্টা বাজতে চলেছে বিয়ের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর জর্জিনা রদ্রিগেজ—ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত জুটি, অবশেষে বাঁধা পড়তে যাচ্ছেন এক সুতোয়। নিজ জন্মভূমি মাদেইরার মাটিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা।

প্রশ্ন হলো—কবে হচ্ছে এই রাজকীয় বিয়ে? কোথায় বসছে আয়োজন? কারা থাকছেন অতিথির তালিকায়? আর কেন নিজের জন্মস্থানকেই বিয়ের জন্য বেছে নিলেন রোনালদো?

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী শনিবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন রোনালদো ও জর্জিনা। স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে রোনালদোর জন্মভূমি পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপ। বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে।

প্রায় ১৫ শতকের পুরোনো এই গির্জার সঙ্গে রোনালদোর রয়েছে বিশেষ আবেগের সম্পর্ক। কারণ, ফুনচাল শহরেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা তাঁর। স্থানীয় রীতি অনুযায়ী, সেখানে সাধারণত বিকেল ৩টার দিকে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অতিথিদের জন্য থাকছে বিশেষ সংবর্ধনা আয়োজন।

বিয়ের পরের আয়োজন হবে মাদেইরার বিলাসবহুল পাঁচ তারকা হোটেল স্যাভয় প্যালেসে। আটলান্টিক মহাসাগরের দারুণ দৃশ্যের সামনে অবস্থিত এই বিলাসবহুল হোটেলকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। জানা গেছে, অতিথিদের নিরাপত্তা ও আয়োজনের জন্য হোটেলের কয়েকটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যদিও এখনো অতিথিদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে—রোনালদোর পরিবার, ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ফুটবল বিশ্বের পরিচিত অনেক মুখ উপস্থিত থাকতে পারেন এই অনুষ্ঠানে।

এখন প্রশ্ন হলো, এত জায়গা থাকতে বিয়ের জন্য কেন মাদেইরাকে বেছে নিলেন রোনালদো? রোনালদোর কাছে মাদেইরা শুধু একটি জায়গা নয়, এটি তাঁর শিকড়। এই শহরেই তাঁর জন্ম, এই শহরেই শুরু হয়েছিল তাঁর সংগ্রামের গল্প।

আজ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ হলেও রোনালদোর শৈশব ছিল ভীষণ কঠিন। ছোটবেলায় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি। মাত্র ১১ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে লিসবনে চলে যান ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার জন্য। সেই মাদেইরাতেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত উদ্‌যাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোনালদো।

২০১৬ সালে এক ফ্যাশন স্টোরে পরিচয় হয়েছিল দুজনের, জর্জিনা তখন সেখানেই কাজ করতেন। সেই পরিচয় থেকেই শুরু প্রেম, আর গত বছর আগস্টে বাগদান। কিছুদিন আগে মায়োর্কায় ইয়টে হীরার আংটি পরা অবস্থায় দেখা যায় দুজনকে, যা বিয়ের গুঞ্জনকে করে তোলে আরও জোরালো।

বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিদায়ের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, শিরোপা হাতে নিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসার স্বপ্নটা হয়তো অধরাই থেকে গেল রোনালদোর। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় ট্রফিটা তো অপেক্ষায় ছিল মাঠের বাইরেই।