ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর চেয়ার যতই দিন যাচ্ছে আরও নড়বড়ে হচ্ছে। বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চেয়েও রক্ষা হচ্ছে না তার। এবার ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে ইউরোপ, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং এশিয়ার ফুটবল নিয়ন্ত্রক তিন সংস্থা—উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি। যৌথভাবে দেওয়া এক চিঠিতে এই তিন কনফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ফুটবলের নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা সম্পত্তি নয়।
চিঠিতে তিন কনফেডারেশন বলেছে, ‘ফুটবলের নেতৃত্ব কারো ক্ষমতা ধরে রাখা বা ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করার বিষয় নয়।’
ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ফুটবল অঙ্গনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে চিঠিতে। তাদের ভাষায়, ‘প্রতারণার মাধ্যমে যখন আস্থা ভেঙে যায়, যখন কোনো ব্যক্তি তাকে দেওয়া ক্ষমতার জেরে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বে নিজেকে স্থান দেন, তখন তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্যকে বিসর্জন দেন।’
ফিফার প্রতিযোগিতায়, বিশেষ করে বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার ইনফান্তিনোর সাম্প্রতিক পরিকল্পনাই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করে। পরিকল্পনাটি ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হলেও উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি তাদের আপত্তি থেকে সরে আসেনি।
তিন সংস্থার মতে, বিষয়টি কেবল যোগাযোগের ব্যর্থতা নয় বরং ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার ঘাটতির প্রতিফলন।
ফিফার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তারা বলেছে, ‘ফিফা এটিকে যোগাযোগের ব্যর্থতা হিসেবে দেখিয়েছে। কিন্তু ফুটবল যা প্রত্যক্ষ করেছে, তা ছিল বিচার-বিবেচনার ব্যর্থতা।’
ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তিন কনফেডারেশন। তাদের অভিযোগ, সংকটের সময় ফিফার নেতৃত্বের উচিত ছিল সংস্থার কর্মীদের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান করা। এর পরিবর্তে মরক্কোতে নির্বাচিত কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে বৈঠক করায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তাদের ভাষায়, ‘এটি একজন অভিভাবকের আচরণ নয় বরং এমন একজনের আচরণ, যিনি মনে করেন খেলাটিকেই তার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’
তিন কনফেডারেশন আরও জানিয়েছে, ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে নয় বরং ফুটবলের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই। তাদের বার্তা পরিষ্কার—ফুটবলের শক্তি তার ঐক্যে, কোনো একক ব্যক্তির ক্ষমতায় নয়।