গ্রীষ্মকালীন দলবদল শুরুর আগ থেকেই হুলিয়ান আলভারেসকে নিয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকারকে ছাড়তে কোনোভাবেই রাজি হয়নি আতলেতিকো মাদ্রিদ। এমনকি নতুন মৌসুমের জন্য নিজেদের খেলোয়াড়দের ফটোশুটেও রেখেছে আলভারেসকে। কাগজে-কলমে আশা থাকলেও, বাস্তবতা বলছে আলভারেসকে এবার পাওয়া হচ্ছে না বার্সেলোনার!
সেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে আলভারেসকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা আপাতত স্থগিত রেখেছে কাতালান ক্লাবটি। সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। এক প্রতিবেদনে ইএসপিএন জানিয়েছে, দলবদলের সময় শেষ হওয়ার আগেই এখন অন্য স্ট্রাইকারের দিকে নজর দিচ্ছে বার্সা।
সূত্রের বরাতে ইএসপিএন আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে তো বটেই, আগামী জানুয়ারির দলবদলেও আলভারেসকে পেতে আবারও চেষ্টা চালাতে পারে কাতালান ক্লাবটি। তবে আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ডকে ছাড়তে আতলেতিকো মাদ্রিদের অনাগ্রহের কারণে বার্সার স্পোর্টিং ডিরেক্টর দেকো বিকল্প খেলোয়াড়দের নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন।
গত মৌসুম শেষে রবের্ত লেভানদফস্কি ও ফেরান তোরেস চলে যাওয়ায় নাম্বার নাইন পজিশনে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে বার্সার। সেই শূন্যতা পূরণে আলভারেসকে পাওয়ার আশা করেছিল বার্সা। সেই আশা আপাতত পূর্ণ না হওয়ায় দলে একজন প্রপার স্ট্রাইকার চান বার্সা কোচ হানসি ফ্লিক। গতকাল বুধবার ফ্লিক বলেছেন, ‘আমরা ওই খেলোয়াড়কে (স্ট্রাইকার) খুঁজছি এবং এ ব্যাপারে দেকো দারুণ কাজ করছে।”
তবে ক্লাবের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ধারণা, নতুন স্ট্রাইকার না এলেও বর্তমান দলে পর্যাপ্ত বিকল্প আছে। দেকো বলেছেন, ‘আমরা আক্রমণভাগে দুজন খেলোয়াড় হারিয়েছি— লেভা (লেভানদফস্কি) ও ফেরান (তোরেস)। আমার মনে হয়, আমরা যেসব খেলোয়াড় দলে এনেছি, তাদের দিয়ে ফেরানের জায়গা পূরণ করার সমাধান আছে। কিন্তু লেভার শূন্যতা পূরণ অনেক বেশি কঠিন। তার মতো একজন খেলোয়াড়ের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।’
দেকো আরও বলেছেন, ‘দলের ভেতরেও কিছু সমাধান আছে। তবে বাজারে কী পাওয়া যাচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে। এখন অনেক আলোচনা চলছে। আমার মনে হয়, সামনে আরও কিছু পরিবর্তন হবে। আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি।’
আলভারেসকে নিয়ে বার্সার আগ্রহের কথা শোনা যাচ্ছিল চলতি বছরের শুরু থেকেই। এমনকি চলমান দলবদলে তাঁর জন্য প্রায় ১০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল কাতালান ক্লাবটি। তবে বার্সার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আতলেতিকো। মাদ্রিদের ক্লাবটি এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড়। যদিও আলভারেস এর আগে জানিয়েছিলেন, তিনি ক্লাব পরিবর্তন করতে চান। কিন্তু এরপরও তাঁকে ছাড়তে রাজি নয় আতলেতিকো।
বার্সা আশা করেছিল, আলভারেসের ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার আগ্রহের কারণে আতলেতিকোর অবস্থান কিছুটা নমনীয় হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, দলবদলের সময় শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে খুব বড় নাটকীয়তা না হলে এই চুক্তিটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
আলভারেস ছাড়াও চলতি গ্রীষ্মে জোয়াও পেদ্রো ও জুনিয়র ক্রুপির জন্যও চেষ্টা চালিয়েছিল বার্সা। তবে জোয়াও পেদ্রো চেলসির সঙ্গে নতুন চুক্তি করেছেন। আর বোর্নমাউথের স্ট্রাইকার ক্রুপি পায়ের চোটের কারণে প্রায় চার মাস মাঠের বাইরে চলে গেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টার মিলানের লাওতারো মার্তিনেজ ও স্পোর্টিং সিপির লুইস সুয়ারেজের নামও বার্সার সঙ্গে জড়িয়েছে। তবে বর্তমানে দুজনের ক্ষেত্রেই ট্রান্সফার ফি অনেক বেশি হওয়ায় বার্সার জন্য চুক্তি করা কঠিন। আরেক সূত্র জানিয়েছে, ম্যান ইউনাইটেড ফরোয়ার্ড বেনইয়ামিন সেস্কোর দিকেও নজর রেখেছে বার্সা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেস্কোকেও বার্সায় নিয়ে আসা অসম্ভব হতে পারে। এছাড়া ভিয়ারেয়ালের দুই খেলোয়াড় আয়োসে পেরেসে ও জর্জেস মিকাউতাদসের নামও আলোচনায় এসেছে। সূত্র বলছে, মিকাউতাদসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছে বার্সা। তবে শেষ পর্যন্ত কাকে দলে ভেড়াতে পারে ক্লাবটি, সেটাই এখন দেখার।