মরিনিওর ‘ঘরে’ ফেরার ম্যাচে হ্যাটট্রিক করলেন ‘ক্ষুধার্ত’ এমবাপ্পে

দীর্ঘ সময় পর আবারও রেয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে ফিরেছেন জোসে মরিনিও। পর্তুগিজ এই কোচের অধীনে গতকাল বুধবারের আগেই একটা ম্যাচ খেলেছে রেয়াল মাদ্রিদ। তবে ২-১ ব্যবধানে জেতা সেই ম্যাচটা ছিল এস্পানিওলের ঘরের মাঠে।

অবশেষে নিজেদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ফিরলেন মরিনিও। ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত এই কোচের বের্নাবেউয়ে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় করেছে রেয়াল মাদ্রিদ। রেয়াল সোসিয়েদাদকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস। মাদ্রিদের বড় জয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এছাড়া অন্য গোলটি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিক হিরো এমবাপ্পেকে নিয়ে মরিনিও বলেছেন, মাদ্রিদের জার্সিতে ইতিহাস গড়তে ক্ষুধার্ত ফরাসি তারকা।

ম্যাচের শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়া মাদ্রিদ এমবাপ্পের কল্যাণে প্রথম গোলের দেখা পায় ৪০ মিনিটে। তবে ৪ মিনিট পরেই সমতায় ফেরায় সোসিয়েদাদ। এতে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও ওঠে মরিনিওর নাম। পর্তুগিজ এই কোচের অধীনে লা লিগায় খেলা সর্বশেষ ৯ ম্যাচই অন্তত একটি করে (সব মিলিয়ে ১৫টি) গোল হজম করেছে মাদ্রিদ।

প্রথমার্ধ ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মাদ্রিদ। এর মধ্যে ৬০ মিনিটে বেলিংহামের পাসে স্কোরলাইন ২-১ করেন এমবাপ্পে। ৮ মিনিট পর ইংলিশ তারকার আরেক পাসে ব্যবধান আরও বাড়ান ভিনিসিয়ুস। আর নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগে ভিনির সহায়তায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। তাতে ৪-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাদ্রিদ। এ জয়ে ২ ম্যাচে পূর্ণাঙ্গ ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে মাদ্রিদ।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পেকে নিয়ে মরিনিও বলেছেন, ‘এই ছেলেটা (এমবাপ্পে) অসাধারণ। আমি খুশি যে ও বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়েছে (বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে)। কারণ বিশ্বকাপ জেতা ২৫ জন খেলোয়াড় ছিল, কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন একজনই— যিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন। মনে হচ্ছে, রেয়াল মাদ্রিদের হয়ে ইতিহাস গড়ার জন্য সে ক্ষুধার্ত।’

এর আগে ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত রেয়াল মাদ্রিদের ডাগআউট সামলেছেন মরিনিও। সে সময় মেসি লা লিগার এক মৌসুমে ৫০ গোল ও রোনালদো ৪৬ গোল করেছিলেন। এমবাপ্পে কি তাঁদের ছাড়িয়ে যেতে পারবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মরিনিও বলেছেন, ‘৬০, ৪০ নাকি ৫০— আমি বলতে পারছি না। ৪০ গোল হলেই আমার ভালো লাগবে। তবে সেটার সঙ্গে শিরোপা থাকতে হবে।’