১৬ বছর বয়সেই

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলে ডাক পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান

আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে চারটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পেরুর বিপক্ষে ম্যাচের পর চিলি, মেক্সিকো ও কানাডা ম্যাচ দিয়ে বিরতি শেষ করবে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।

এই চার ম্যাচের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার ২৮ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন পচেত্তিনো। সেই দলে প্রথমবার সুযোগ পেয়েছেন ১৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভান।

তা কাভান সুলিভানের নামটা পরিচিত মনে হচ্ছে? হওয়ারই কথা। এর আগে বাংলাদেশের বয়সভিত্তিক দলে খেলে যাওয়া রোনান ও ডেকলান সুলিভানের ভাই কাভান সুলিভান। আর সুলিভান ভাইদের নানি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসত গড়েছিলেন। সেই দিক থেকে কাভান সুলিভানের শরীরেও বইছে বাংলাদেশি রক্ত।

সুলিভান যে যুক্তরাষ্ট্র দলে ডাক পাবেন, সেটা এক রকম অনুমিতই ছিল। তাছাড়া কোচ পচেত্তিনো আগেই জানিয়েছিলেন, দলে তরুণ ও অভিজ্ঞ- দুই ধরনের খেলোয়াড়েরই সমন্বয় থাকবে। ঘোষিত দলেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। কাভান সুলিভানসহ স্কোয়াডে ডাক পাওয়া ১৩ জন খেলোয়াড় এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। এছাড়া অভিজ্ঞ আরও ১৩ খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে রেখেছেন পচেত্তিনো।

সুলিভানদের নিয়ে যে ২০৩০ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছেন পচেত্তিনো, সেটাও উঠে এসেছে তাঁর কথাতেই। দল ঘোষণা প্রসঙ্গে পচেত্তিনো বলেছেন, ‘অতীতে যেভাবে দল তৈরি করা হতো, এবার আমরা সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে এগোচ্ছি। বিশ্বকাপ চার বছর পর। তাই আমাদের ভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।’

কাভান সুলিভান যে এবারই জাতীয় দলে ডাক পেতে পারেন, সেই খবর কয়েকদিন আগে প্রকাশ করেছিল ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন। অনেকদিন ধরেই সুলিভানকে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তি করেন কাভান সুলিভান। এর মাধ্যমে এমএলএসের মূল দলের সঙ্গে চুক্তি করা পঞ্চম সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হন তিনি। কাভান সুলিভানের প্রতিভার কথা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডিতেই আটকে থাকেনি, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলেও। সে কারণেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটিও তাঁর চুক্তি সেরে রেখেছে।

বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হলেই ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন ছেড়ে সিটিতে ট্রান্সফার হওয়ার সুযোগ আছে তাঁর। এমএলএসের ক্লাবটির সঙ্গে এভাবেই চুক্তিবদ্ধ তিনি।

প্রতিভা তো আছেই, কাভান সুলিভানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাঁকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে পচেত্তিনোকে। বিশ্বকাপের বিরতির পর থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ৬টি গোল করেছেন কাভান সুলিভান। লিগে সর্বশেষ ৭ ম্যাচেই গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন। পাশাপাশি সব মিলিয়ে লিগে ৮টি অ্যাসিস্ট আছে তাঁর নামের পাশে।

সব ধরনের প্রতিযোগিতা বিবেচনায় নিলে, চলতি মৌসুমে ৯ গোল করার পাশাপাশি ১৫টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন কাভান সুলিভান। ১৬ বছর বয়সী একজন খেলোয়াড়ের জন্য সংখ্যাটা বেশ নজরকাড়া।

সুলিভানের প্রশংসায় পচেত্তিনো বলেছেন, ‘যে আলো আজ ওকে ঘিরে আছে, তার পুরোটাই ওর প্রাপ্য। সে ভালো খেলছে, গোল করছে, করাচ্ছে। বয়সটা তার মাত্র ১৬, এখনো শৈশবের ঘ্রাণ গায়ে। তবে আমাদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, এবার তার সঙ্গে একসূত্রে বাঁধার সুযোগ এসেছে। জাতীয় দলের আঙিনায় ওর সঙ্গে স্বপ্ন ভাগ করে নেওয়া যাবে। এই বয়সে এমএলএসের কঠিন মঞ্চে এভাবে দ্যুতি ছড়ানো সত্যিই দুর্লভ। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশ আরও বড়, আরও ঝোড়ো। আমাদের দায়িত্ব ওর ডানায় এমন বাতাস দেওয়া, যেন সে প্রতিদিন আরও উঁচুতে উড়তে পারে।’

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ১৭ বছরে পা দেবেন কাভান সুলিভান। সামনে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের তিন ম্যাচের যেকোনো একটিতে মাঠে নামলেই, দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হবে কাভান সুলিভানের।  তাঁর চেয়ে কম বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল শুধু ফ্রেডি আদুর। ২০০৬ সালের ২২ জানুয়ারি কানাডার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ১৬ বছর ২৪৩ দিন বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে অভিষেক করেছিলেন আদু।