চ্যাম্পিয়নস লিগে গত সপ্তাহে পিএসজির কাছে হারলেও লা লিগায় বার্সেলোনা ছিল অপ্রতিরোধ্য। মৌসুমের প্রথম ৯ ম্যাচ জেতা কাতালান ক্লাবটি ছিল নতুন ইতিহাসের সামনে। ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে রেয়াল মাদ্রিদকে হারাতে পারলে, প্রথম দল হিসেবে ইউরোপের শীর্ষ ৫ লিগে মৌসুমের প্রথম ১০ ম্যাচে জয়ের অনন্য কীর্তিতে উঠে যেত বার্সার নাম।
কিন্তু সেটা হতে দেয়নি রেয়াল মাদ্রিদ। কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলে বার্সাকে ২-১ গোলে হারিয়েছে জোসে মরিনিওর দল। এ জয়ে পয়েন্ট টেবিলে বার্সার সঙ্গে ব্যবধান কমিয়েছে লস ব্লাঙ্কোস।
বর্তমানে ১০ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে বার্সা। সমান ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রেয়াল মাদ্রিদ। বার্সাকে বার্সার মাঠে হারানো, পয়েন্ট টেবিলে ব্যবধান কমা- এরপরও সন্তুষ্ট নন মরিনিও। মাদ্রিদ কোচের লক্ষ্যটা আরও বড়। তিনি জানিয়েছেন, শুধু বার্সাকে হারালেই চলবে না, মাদ্রিদকে শিরোপা জেতাতে চান তিনি।
অবশ্য গতকালের ম্যাচে প্রথম গোলে কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছে মাদ্রিদ। ৪১ মিনিটে জেরার্দ মার্তিন বল ক্লিয়ার করতে গেলে সেটি এমবাপ্পের পায়ে লেগে আশ্রয় নেয় বার্সার জালেই। ২১ মিনিট পরে রাফিনিয়া বার্সাকে সমতায় (১-১) ফেরালেও নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট আগে মাদ্রিদের জয়সূচক গোলটি করেন এমবাপ্পে। তাতে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মরিনিওর দল।
এ জয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৫ ম্যাচ জিতল রেয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের হারানো কিংবা দলের এমন দুর্দান্ত ফর্মেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না মরিনিও। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বার্সেলোনাকে হারানোই রিয়ালের চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়।
মরিনিও বলেছেন, ‘এটা দারুণ জয়। কিন্তু অনুশীলনে ফিরেই আমি কাউকে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে দেব না। আজ (রোববার) আমরা জিতলাম, কিন্তু আগামী সপ্তাহে রেসিং সান্তান্দারের মাঠে গিয়ে হারলে কী হবে? রেয়াল মাদ্রিদ ক্যাম্প ন্যুতে জেতার জন্য খেলে না, খেলে লিগ শিরোপা জেতার জন্য। আমাদের সামনে তাকাতে হবে।’
ম্যাচ নিয়ে মাদ্রিদ কোচ আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, ম্যাচটা দারুণ ছিল। উচ্চ মানের ফুটবল হয়েছে। ফুটবলপ্রেমী সারা বিশ্বের মানুষ ম্যাচটি দেখতে থেমে গিয়েছিলেন। ম্যাচটি তাঁদের হতাশ করেনি। আমাদের ছেলেরা অসাধারণ খেলেছে। তারা গোছানো ছিল, মনোযোগ ধরে রেখেছিল এবং দারুণ সাহস দেখিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এটা ছেলেদের জন্য দারুণ এক জয়। এই জয়ের যোগ্য তারা।’
এদিকে ক্যাম্প ন্যুতে বার্সেলোনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অসুস্থ হয়ে পড়া থিবো কোর্তোয়ার বদলে গোলপোস্ট সামলাতে হয়েছে রেয়ালের দ্বিতীয় গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনকে।
লুনিনকে নিয়ে মরিনিও বলেন, ‘ম্যাচের আগে লুনিনকে আমি শুধু বলেছিলাম, তুমি অনুশীলন করো মাঠে খেলার জন্য, বেঞ্চে বসে থাকার জন্য নয়। আমাদের হাতে বিশ্বের সেরা গোলরক্ষক আছে। কিন্তু আজ থিবো খেলতে পারবে না বলে আমরা ম্যাচের আগেই হতাশ হয়ে পড়িনি। আমাদের দলটা শক্তিশালী।’
ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভের্দে চোট পেয়েছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন মরিনিও। তবে সতীর্থদের সাহায্য করতে মাঠ ছাড়তে চাননি এই মিডফিল্ডার। চোট নিয়েই ৪০ মিনিটের বেশি সময় খেলেছেন তিনি। ভালভের্দের প্রশংসায় মরিনিও বলেন, ‘চোট নিয়েই ৪০ মিনিটের বেশি সময় খেলেছে ভালভের্দে। সে চোট পেয়েছিল, কিন্তু তারপরও খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চেয়েছে। মাঠে নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে।’