বয়স ৪১ পেরিয়েছে। যে বয়সে বুটজোড়া তুলে অনেকে কোচিং ক্যারিয়ার কিংবা বিশ্রামকে পাকাপাকিভাবে বেছে নেন, সেই বয়সেও দিব্যি খেলে যাচ্ছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। সম্প্রতি কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধ হলেও জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। আর ক্লাব ফুটবলে তো নিয়মিতই গোল করছেন। আল নাসরের হয়ে খেলা সর্বশেষ ম্যাচেও হ্যাটট্রিক করেছেন তিনি।
এই বয়সে এমন ফর্মে থাকা রোনালদোকে নিয়ে আবারও তির্যক মন্তব্য করেছেন তাঁর সাবেক কোচ এরিক টেন হাগ। ম্যান ইউনাইটেডের সাবেক কোচ এরিক টেন হাগের দাবি, রোনালদোর সামর্থ্য ৭-৮ বছর আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে রোনালদো আর আগের মতো পারফর্ম করে দলকে জেতাতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সম্প্রতি ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন নেদারল্যান্ডসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন টেন হাগ। সেই সাক্ষাৎকারে ম্যান ইউনাইটেডের সাবেক এই কোচ বলেছেন, ‘রোনালদো নিঃসন্দেহে অসাধারণ একজন খেলোয়াড় এবং সর্বকালের সেরাদের একজন। তবে গত সাত-আট বছরে তিনি আর আগের মতো পারফর্ম করার সামর্থ্য ধরে রাখতে পারেননি।’
ক্লাব ক্যারিয়ারে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ম্যান ইউনাইটেডে কাটানোর পর যোগ দেন রেয়াল মাদ্রিদে। সেখান থেকে ২০১৮ তে যান ইতালিয়ান ক্লাব ইউভেন্তুসে। ইতালিতে তিন মৌসুম কাটানোর পর ফের ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দেন। সেখানে একটা সময় কোচ হিসেবে পেয়েছেন টেন হাগকে। কিন্তু ম্যান ইউনাইটেডে পরের অধ্যায়টা সুখকর ছিল না রোনালদোর জন্য। ক্লাবের সঙ্গে এক পর্যায়ে চুক্তি বাতিল করে যোগ দেন সৌদি ক্লাব আল নাসরে।
টেন হাগের মতে, রোনালদো যখন রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়লেন, তখন থেকেই তাঁর সামর্থ্য কমতে শুরু করে। তাঁর ভাষায়, ‘রোনালদোকে ইউভেন্তুসের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পর থেকেই কার্যত সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।’
টেন হাগের দাবি, রেয়াল মাদ্রিদ বুঝতে পেরেছিল, রোনালদোকে দিয়ে আর চলবে না। এ কারণেই তাঁকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। টেন হাগের ভাষায়, ‘আসলে রেয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তারা সব সময় জানে কিংবদন্তি কোনো খেলোয়াড়কে বিদায় জানানোর সঠিক সময় কখন।’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দায়িত্ব নেওয়ার পর রোনালদোর সঙ্গে নিজের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন টেন হাগ। তাঁর ভাষায়, ‘আমি যখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে কাজ শুরু করি, তখন রোনালদোকে বুঝিয়ে বলেছিলাম, আমরা কী ধরনের ফুটবল খেলতে চাই, দলে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশা কী এবং আমার কাছ থেকে তিনি কী আশা করতে পারেন।’
তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয় বলে মনে করেন এই ডাচ কোচ। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আপনাকে মাঠে কিছু করে দেখাতে হবে। আগেই বলেছি, কঠোর পরিশ্রম করার সামর্থ্য আর ক্রিস্টিয়ানোর ছিল না।’
টেন হাগের ব্যাখ্যা, ‘এর অর্থ হলো প্রতিদিন নিজেকে সামর্থ্যের শেষ সীমা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া, সর্বোচ্চ তীব্রতায় অনুশীলন করা এবং শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা। প্রিমিয়ার লিগে এসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
সবশেষে টেন হাগ বলেন, ‘আপনি যদি শারীরিকভাবে সেরা অবস্থায় না থাকেন, তাহলে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা পর্তুগাল জাতীয় দল—কোথাও সফল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’