মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে গত সপ্তাহে সিনসিনাটির বিপক্ষে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন লিওনেল মেসি। এমএলএসে চলতি মৌসুমে মেসির সেটি পঞ্চম হলুদ কার্ড হওয়ায় নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচে আর্জেন্টাইন সাবেক অধিনায়কের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
তবে এমএলএসের বিশেষ নিয়মে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়নি মেসিকে। সে কারণে বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার সকালের ম্যাচে খেলতে অসুবিধা হয়নি ৩৯ বছর বয়সী এ মহাতারকার। সেখানেই শেষ নয়, নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এক গোলের পাশাপাশি একটা অ্যাসিস্টও করেছেন মেসি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করে ম্যাচটা ২-১ ব্যবধানে জিতেছে মায়ামি।
এ জয়ে ৩৩ ম্যাচে ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে মায়ামি। চলতি মৌসুমের প্লে-অফে নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিত করতে পয়েন্ট টেবিলের ওপরের দিকে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা বিবেচনায় আজকের জয়টি তাৎপর্যপূর্ণ।
তা মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, চলতি মৌসুমে এমএলএসের পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেও মেসি কেন এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেলেন না? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে এমএলএসের নিয়মেই।
চলতি মৌসুমে এমএলএসে মায়ামির ৮ম, ১১তম, ২০তম, ৩১তম ও ৩৩তম ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখেন মেসি। পাঁচ ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখলেও, এমএলএসের একটি বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় টানা পাঁচ ম্যাচ হলুদ বা লাল কার্ড না দেখলে এবং কোনো ধরনের অতিরিক্ত শাস্তি না পেলে তাঁর মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা থেকে একটি কমে যায়।
লিগের এই নিয়মকে বলা হয় ‘গুড বিহেভিয়ার ইনসেনটিভ’। পুরো নিয়মিত মৌসুমে সর্বোচ্চ তিনবার এই সুবিধা নিতে পারেন একজন খেলোয়াড়। মেসি চলতি মৌসুমে তিনবার টানা ৫টির বেশি ম্যাচ কোনো ধরনের কার্ড না দেখায় তাঁর আগের একটি হলুদ কার্ডের শাস্তি মওকুফ হয়েছে। ফলে নিউ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে কোনো বাধা ছিল না তাঁর।
এ ম্যাচে ৫৩ মিনিটে পিছিয়ে পড়েছিল মায়ামি। তবে খুব বেশি সময় পিছিয়ে থাকতে হয়নি ফ্লোরিডার ক্লাবটিকে। ৬৯ মিনিটে মেসির অ্যাসিস্টে মায়ামিকে সমতায় ফেরান বেরতেরামে। আর নির্ধারিত সময়ের ৭ মিনিট আগে দারুণ এক গোল করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এতে ২-১ ব্যবধানের জয়ে শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে মায়ামি।


