ম্যানচেস্টারের একটা অংশ যদি লাল হয়, অন্য অংশের রং নীল। যেখানে লাল অংশের প্রতিনিধি ম্যান ইউনাইটেড, আর নীলের? ম্যান সিটি। নগর প্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে সম্পর্কটাও দা-কুমড়ার। এক অংশের হতাশার রাত মানেই, অন্য অংশের উৎযাপনের উপলক্ষ্য।
কিন্তু গতকাল শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার যা দেখেছে, সেটার নজির খুব একটা নেই বললেই চলে। লিগের ম্যাচে নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে ম্যান সিটি। কিন্তু এই হারে এনসো মারেসকার দল যতটা কষ্ট পেয়েছে, ঠিক একই পরিমাণ কিংবা তার চেয়েও বেশি ব্যথা পেয়েছে ম্যান ইউনাইটেডও!
মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ম্যান সিটির হারে ম্যান ইউনাইটেড কীভাবে ব্যথা পাবে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে পয়েন্ট টেবিলের হিসেবে। ম্যান সিটি হেরে যাওয়ায় ৪০ বছর পর পয়েন্ট টেবিলের অবনমন অঞ্চলে নেমে গেছে রেড ডেভিলরা। প্রিমিয়ার লিগে অন্তত ৯ ম্যাচ খেলার হিসাব বিবেচনায় নিলে, ম্যান ইউনাইটেড শেষবার অবনমন অঞ্চলে নেমেছিল ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে। সেবার ১৫ ম্যাচ শেষে লিগে পয়েন্ট তালিকার ২১ নম্বরে নেমে গিয়েছিল ইউনাইটেড।
বর্তমানে লিগের ৯ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৮ নম্বরে ক্যারিকের দল। গত ৪০ বছরের ইতিহাসে, প্রিমিয়ার লিগে এটাই ম্যান ইউনাইটেডের সবচেয়ে বাজে শুরু। ১৯৮৬ সালের নভেম্বরে দলের এমন বাজে শুরুর পর কোচের দায়িত্ব হারিয়েছিলেন রন অ্যাটকিনসন। এরপর ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন।
অন্যদিকে এবার ম্যান ইউনাইটেডের বাজে শুরুর পর কোচ হিসেবে ক্যারিকের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চিয়তা বেড়েছে। যদিও গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগে এএস রোমার বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয় ক্যারিকের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়েছে। তবে এখনো চাকরিটা সুতোর ওপরই ঝুলছে ক্যারিকের। প্রিমিয়ার লিগে আজ রাতে অ্যাস্টন ভিলার মুখোমুখি হবে রেড ডেভিলরা। এ ম্যাচে ম্যান ইউনাইটেড হেরে গেলে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ক্যারিকের কোচিং অধ্যায়ের ইতি ঘটতে পারে।