ছয় বছর নাকি নয়? কিলিয়ান এমবাপ্পে ও রেয়াল মাদ্রিদের দলবদলের নাটকের বয়স কত, এ নিয়ে তর্ক হতে পারে। ২০১৭ সালে মোনাকো থেকে ফ্রেঞ্চ ফরোয়ার্ডকে টানার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছিল মাদ্রিদ। তাঁকে অবশ্য আরও তিন বছর আগেই একাডেমির জন্য চেয়েছিল মাদ্রিদ। দুই আদর্শ জিনেদিন জিদান ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রলোভনেও মোনাকোর একাডেমি ছাড়েননি কিশোর এমবাপ্পে।
তিন বছর পরও মাদ্রিদকে হতাশ করেছেন, স্প্যানিশ ক্লাবে না গিয়ে পিএসজিতে গিয়েছিলেন, বলেছিলেন, ‘মাদ্রিদ আমার জন্য অপেক্ষা করবে।’
এতটা দম্ভ শুধু শুধু করেননি, এরপর প্রতিটি দলবদলেই এমবাপ্পে ও মাদ্রিদকে ঘিরে গুঞ্জন উঠেছে। সে গুঞ্জন এবার বাস্তব হয়ে উঠতে পারে। শোনা যাচ্ছে, ২০২৪ সালের জন্য বসে না থেকে এবারই এমবাপ্পে কিনতে পারে মাদ্রিদ। তবে সেটা করতে হলে দলবদলের রেকর্ড ভাঙতে হবে।
২০২১ সালে একবার মাদ্রিদে যেতে প্রকাশ্যেই পিএসজির কাছে আবেদন করেছিলেন এমবাপ্পে। দলবদলের শেষ সপ্তাহে ১৬ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দিয়েছিল স্প্যানিশ পরাশক্তিরা। কিন্তু পিএসজি সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল। ২০২২ মৌসুমে ফ্রিতেই মাদ্রিদে যাচ্ছেন, এমন এক খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। নিজের শৈশবের গল্প নিয়ে একটি কমিক্স বের করে তার পাতায় পাতায় মাদ্রিদের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়ে এমবাপ্পে নিজেই সে গুঞ্জনের পাল্লা ভারী করেছেন।
কিন্তু এমবাপ্পে নিজেই সে সুযোগ না নিয়ে আবার চুক্তি নবায়ন করেছেন। ‘২০২৫’ লেখা এক জার্সিসহ হাজির হয়ে জানিয়েছেন ২০২৫ সাল পর্যন্ত পিএসজিতে থাকছেন। তবে ২০২২-২০২৩ মৌসুম শুরু হওয়ার পর জানা গেছে, চুক্তি ২০২৪ সাল পর্যন্ত। এমবাপ্পে চাইলে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
২০২৩-২৪ মৌসুম শুরু হয়নি এখনো। এর আগেই এমবাপ্পে জানিয়ে দিয়েছেন চুক্তি আর নবায়ন করবেন না। এর পর থেকেই শুরু হয়েছে যুদ্ধ। পিএসজি হুমকি দিয়েছে, হয় চুক্তি নবায়ন করতে হবে অথবা এ বছরই ক্লাব ছাড়তে হবে। এবং সে সিদ্ধান্ত ১৫ জুলাইয়ের আগে জানাতে হবে।
কিন্তু এমবাপ্পে নিজের সিদ্ধান্তেই অটল থাকায় তাঁকে রেখে প্রাক-মৌসুম সফরে বেড়িয়ে পড়েছে পিএসজি। এরই মধ্যে সৌদি প্রো-লিগের ক্লাব আল-হিলাল তাঁর জন্য ৩০ কোটি ইউরো দিতে চাইছে। পিএসজি সঙ্গে সঙ্গে প্রস্তাবে রাজি হলেও এমবাপ্পে পাত্তাই দেননি।
পিএসজি ধরেই নিয়েছে, এমবাপ্পে এরই মধ্যে মাদ্রিদের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছেন। শুধু তাদের কোনো অর্থ দিতে রাজি নয় বলে ২০২৪ সালে সে দলবদল হবে। কিন্তু এক বছর পর এমবাপ্পেকে ফ্রিতে ছেড়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে চায় না পিএসজি। আর সেটা ঠেকাতে না পারলে এমবাপ্পেকে দরকার হলে পুরো মৌসুম বেঞ্চে বসিয়ে রাখবে তারা।
এমন কিছু যেন না হয় তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন এমবাপ্পের মা ফাইজা লামারাই। মাদ্রিদের বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন যেন এ মৌসুমেই দলবদলটা হয়ে যায়। এবং এর জন্য মাদ্রিদকে ২৫ কোটি ইউরো ব্যয় করতে হবে। যদিও লস ব্লাঙ্কোসরা মাত্র এক বছর বাকি আছে চুক্তির, এমন কারও পেছনে এত অর্থ ব্যয় করতে রাজি নয়। সর্বশেষ এদেন আজাখের জন্য এভাবে ১০ কোটি ইউরোর বেশি ব্যয় করেছিল মাদ্রিদ। চার মৌসুমে মাদ্রিদে অর্ধেকের বেশি ম্যাচ চোটাক্রান্ত থেকে এবং অন্য সময় কোচের পরিকল্পনায় না থেকে বেঞ্চে বসে আজাখ সে বিনিয়োগকে অপচয়ে রুপ দিয়েছিলেন।
মাত্র এক মৌসুম বাকি আছে, এমন এক খেলোয়াড়ের জন্য পিএসজির এত অর্থ চাওয়ার কারণ আছে। ২০২২ সালে ওভাবে নাটকীয়ভাবে চুক্তি নবায়ন করায় এমবাপ্পেকে চোখ কপালে তোলা বেতন দিচ্ছে পিএসজি। সে সঙ্গে চুক্তি নবায়নের বোনাসও দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী। এ বছর পিএসজিতে রয়ে গেলে বেতন ও ‘লয়্যালটি’ বোনাস হিসেবে এমবাপ্পে ১৯ কোটি ২০ লাখ ইউরো পাবেন! এখন এমবাপ্পেকে অন্য দলে পাঠালে সে অর্থ পুরোটা দিতে না হলেও ক্ষতিপূরণ দিতেই হবে। ফ্রেঞ্চ সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এ ব্যাপারে এমবাপ্পের মা ও আইনজীবি ডেলফিন ভেরহেইডেনের সঙ্গে কথা বলতে বিখ্যাত মধ্যস্ততাকারী কিয়া জুরবাচিয়ানকে নিয়োগ দিয়েছে পিএসজি।
এখন মাদ্রিদ আসলে কত অর্থ দিতে চায়, সেটা জানার অপেক্ষায় সবাই।