ছেলেদের আবদারে মেসি কখনও ‘স্পাইডারম্যান’, কখনও ‘থর’

ইন্টার মায়ামিতে নাম লিখিয়েই গোলের পর গোল করে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। তাঁর গোল করার ক্ষমতা সম্পর্কে সবাই জানেন বলেই ব্যাপারটা তেমন চমক জাগায় না আর। তবে চমক জাগাচ্ছে গোল করার পর মেসির উদযাপন। গোল করার পর আকাশে দু’হাত উঁচিয়ে মৃত দাদিকে উৎসর্গ করছেন, আর্জেন্টাইন তারকার এমন উদযাপন দেখেই সবাই অভ্যস্ত। কিন্তু এমএলএসে গিয়েই উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন তিনি।

কখনও দেখা গেল মুষ্টিবদ্ধ করে বিশেষ এক ভঙ্গিমায় উদযাপন করছেন, আবারও কখনও বুকের কাছে আড়াআড়িভাবে দুহাত রাখছেন। বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এমন উদযাপন দেখে দর্শকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে। প্রশ্নের উত্তর মেসি নিজেই দিলেন এবার। জানালেন, উদযাপনগুলো মার্ভেল কমিক বই থেকে বানানো বিশ্বখ্যাত সুপারহিরো সিনেমা থেকে অনুপ্রাণিত।

‘থর’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘ব্লাক প্যান্থার’ সহ আরও অনেক জনপ্রিয় কমিক বইয়ের আঁতুড়ঘর মার্ভেল। যে কমিক বইগুলো থেকে সিনেমা বানিয়ে বিশ্বব্যাপী আলাদা এক ভক্তশ্রেণী গড়ে তুলেছে তারা। এমএলএসে যাওয়ার পর সে দলে দলে নাম লিখিয়েছেন মেসিও, সঙ্গী তিন ছেলে – থিও, মাতেও ও চিরো।

তিন ছেলের সঙ্গে সিনেমা দেখতে দেখতে ছেলেদের কথা রাখতে গিয়েই এমন উদযাপন করছেন মেসি, ‘আমার তিন ছেলে এখনও ছুটি কাটাচ্ছে, স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি। প্রতি রাতে তিন ছেলের সঙ্গে আমি তাই মার্ভেলের সুপারহিরো সিনেমা দেখি। ওরাই আমাকে বলেছে, গোল করে মার্ভেলের সুপারহিরোদের মতো উদযাপন করতে!’

বাধ্য বাবার মতো মেসিও তাই একদিন ‘থর’ হচ্ছেন, আবার কখনও হচ্ছেন ‘স্পাইডারম্যান’। আটালান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পাওয়ার ম্যাচে গোল করার পর ‘থর’ যেভাবে তাঁর হাতুড়ি ধরেন, সেভাবে উদযাপন করেছিলেন মেসি। অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে গোল করে ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর মতো বুকের কাছে আড়াআড়িভাবে দুহাত রেখেছিলেন। ছয় ম্যাচে নয় গোল করা মেসি শার্লটের বিপক্ষে গোল করে ‘স্পাইডারম্যান’-এর ভঙ্গিও করেছেন!

ব্যাপারটা এখন অনেকটা রীতির পর্যায়েই চলে গেছে বলে জানিয়েছেন মেসি, ‘এভাবেই ব্যাপারটা চালু হয়ে গেছে। যেদিন আমরা একটা নতুন মুভি দেখি, সেদিনই সেই সুপারহিরোর অঙ্গভঙ্গি রপ্ত করার চেষ্টা করি।’ তবে প্রতিপক্ষের মাঠে এমন উদযাপন করা এখনও শুরু করেননি মেসি, ‘আমি সাধারণত ঘরের মাঠেই গোল করে এমন উদযাপন করছি, কারণ সে ম্যাচগুলো দেখার জন্য আমার ছেলেরা গ্যালারিতে থাকে। তাই গোল করার পর ওদের দিকে তাকিয়ে উদযাপনগুলো করি, মূহুর্তগুলো ভাগাভাগি করে নিই।’

মেসির নতুন উদযাপনগুলোর সঙ্গে সে মার্ভেল সুপারহিরোদের ভঙ্গিমার মিল আছে, সেটা কমিকপ্রেমীরা বুঝেছিলেন ঠিকই। এমএলএসের সঙ্গে মার্ভেলের সাম্প্রতিক চুক্তির দিকে ইঙ্গিত করে ভেবেছিলেন, মেসির অমন উদযাপন হয়তো মার্ভেলের প্রচারণারই অংশ।

কিন্তু বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল তারকা সত্ত্বার আড়ালে মেসি যে একজন বাবাও!