প্রায় ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকার খেলোয়াড় কেনার পরও খেলোয়াড় লাগবে চেলসির

প্রায় দুই দশক আগে চেলসির দায়িত্ব নিয়ে দলটার চেহারা বদলে দিয়েছিলেন রোমান আব্রামোভিচ। একের পর এক খেলোয়াড় কিনে মাঝারি সারির এক দলকে সেরাদের কাতারে নিয়ে এসেছিলেন। গত বছর আব্রাহোভিচের কাছ থেকে আমেরিকান ধনকুবের টড বোয়েলি যখন মালিকানা নিলেন, অনেকে ভেবেছিলেন, চেলসির এন্তার টাকাপয়সা খরচ করার দিন বুঝি ফুরোলো।

কিন্তু কীসের কী! পূর্ণ মালিকানা নেওয়ার সোয়া এক বছরের মধ্যে গুণে গুণে দুই ডজন নতুন খেলোয়াড় দলে ঢুকিয়েছেন বোয়েলি। খরচ হয়েছে ৯৫ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ডের মতো, বাংলাদেশি টাকার হিসেবে প্রায় ১৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। চলতি দলবদলের বাজারেও চেলসির হুংকারে অন্যান্য ক্লাবগুলো একরকম চুপচাপই। কিছুদিন আগেই দুই সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার ময়সেস কাইসেদো ও রোমেও লাভিয়ার পেছনে খরচ করেছেন ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের মতো। এতকিছুর পরও একটা লিগ ম্যাচ জেতার জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে লন্ডনের ক্লাবটা। গত সপ্তাহে লিগের প্রথম ম্যাচে নিজেদের মাঠে লিভারপুলের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করা চেলসি গতকাল ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে হেরেই বসেছে। ৩-১ গোলে পরাজয়ের পর চেলসির কোচ মরিসিও পচেত্তিনো জানিয়েছেন, আরও খেলোয়াড় লাগবে তাঁর!

অবশ্য এই পরাজয় নিয়ে চেলসির বিব্রত হওয়ার কারণও আছে। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ওয়েস্ট হ্যামের ডিফেন্ডার নায়েফ আগের্দ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, বাকি প্রায় আধ ঘন্টা একজন বেশি নিয়ে খেলেও হ্যামারদের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেননি চেলসির কেউ। উল্টো ম্যাচের একদম শেষে পেনাল্টি গোল হজম করেছে। আর এটাই বিরক্ত করছে পচেত্তিনোকে, ‘পরিস্থিতি বেশ কঠিন আমাদের, কারণ আমাদের দুই স্ট্রাইকার ক্রিস্তোফার এনকনকু ও আরমান্দো ব্রোজা চোটের কারণে মাঠের বাইরে। এমন সময়ে আসলে সঠিক খেলোয়াড় পাওয়া অনেক কঠিন। আমরা একটা প্রক্রিয়ার ভেতরে আছি, আশা করি আক্রমণভাগে আরও কয়েকজন খেলোয়াড় কিনতে পারব।’

তবে খেলোয়াড় কিনতে বললেই যে খেলোয়াড় চলে আসবে, ব্যাপারটা যে এত সহজও না, জানেন পচেত্তিনো, ‘তবে এ কাজটা সহজ নয় ক্লাবের জন্য। তবে নিশ্চিতভাবেই তারা নতুন খেলোয়াড় আনার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।’