বিব্রতকর চুমু কেলেঙ্কারিতে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতেই হচ্ছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লুইস রুবিয়ালেসকে। আজ শুক্রবারই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানাচ্ছে ইএসপিএন।
গত রোববার মেয়েদের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন শিরোপা জেতার পর শিরোপামঞ্চেই স্পেনের জেনি এরমোসোর ঠোঁটে চুমু দিয়ে বসেন রুবিয়ালেস। এ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জেরে ক্ষমা চেয়েছিলেন বটে রুবিয়ালেস, কিন্তু তা অনেকের চোখেই ছিল ঔদ্ধত্যপূর্ণ। গত পরশু স্পেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসও বলেন, রুবিয়ালেসের এভাবে ক্ষমাপ্রার্থনা গ্রহণযোগ্য নয়।স্পেনের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ইয়োলান্দা দিয়াস বলেন, রুবিয়ালেসকে পদত্যাগ করতে হবে।
এর মধ্যে গতকাল এরমোসো এবং স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সংগঠন ফুটপ্রো যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ক্ষমা প্রার্থনায় লাভ নেই, রুবিয়ালেসকে শাস্তি পেতে হবে। এরপর ফিফাও রুবিয়ালেসের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাজনিত অপরাধে তদন্ত শুরু করে। আতলেতিকো মাদ্রিদ, রেয়াল বেতিসসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব রুবিয়ালেসের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানায়। এতকিছুর পর রুবিয়ালেসের আর স্পেনের ফুটবল-প্রধানের পদে থাকার সুযোগ ছিল না বললেই চলে।
রয়টার্সকে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করে ইএসপিএন লিখেছে, গতকালই স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) আঞ্চলিক নেতারা মাদ্রিদে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের বিষয় – রুবিয়ালেসের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর পদত্যাগের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিকল্প উত্তরসূরি। আপাতত রুবিয়ালেসের উত্তরসূরি হিসেবে দুটি নাম আসছে – এক্সত্রেমাদুরা ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান পেদ্রো রোচা ও আন্দালুসিয়ান ফেডারেশনের প্রধান পাবলো লোসানো।
২০১৮ সালে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত রুবিয়ালেসের বিতর্ক ও নাটকে ভরা মেয়াদের সর্বশেষ অধ্যায়ই হয়ে থাকছে এই চুমু কেলেঙ্কারি। নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই রুবিয়ালেসকে কঠোর এক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল – ২০১৮ বিশ্বকাপের ঠিক একদিন আগে তিনি বরখাস্ত করেছেন স্পেনের ছেলেদের জাতীয় দলের সে সময়ের কোচ হুলেন লোপেতেগিকে। কারণ, বিশ্বকাপের আগেই রেয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে ক্লাবটির সঙ্গে লোপেতেগির চুক্তি হয়ে যাওয়ার খবর আলোচনায় চলে আসে।
সেখানে রুবিয়ালেসের সিদ্ধান্ত ঠিক বলেই মনে হতে পারে। তবে তাঁকে বিতর্কিত করেছে স্প্যানিশ সুপার কাপের ম্যাচগুলো সৌদি আরবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত। ইএসপিএন জানাচ্ছে, এসবের বাইরে আরও বড় সব অভিযোগও আছে। রুবিয়ালেসেরই চাচা ও ফেডারেশনে তাঁর সাবেক ‘সভাসদ’দের একজন অভিযোগ করেছিলেন, রুবিয়ালেস ফেডারেশনের অর্থ ব্যবহার করে ‘সঙ্গম উৎসবে’র আয়োজন করেন। এছাড়া ফেডারেশনের অর্থে এক নারীকে নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আছে রুবিয়ালেসের বিরুদ্ধে, যা তদন্তাধীন।
মেয়েদের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনেও বিতর্ক আছে। গত সেপ্টেম্বরে স্পেনের মেয়েদের দলের ১৫ খেলোয়াড় ফেডারেশনের সহযোগিতার অভাব ও কোচদের সঙ্গে ঝামেলাকে কারণ দেখিয়ে স্পেনের হয়ে আর না খেলার কথা জানান। রুবিয়ালেস তখন কোচ হোর্হে ভিলদাকেই সমর্থন দেন। পরে অবশ্য পরিস্থিতিতে কিছু বদল আনায় ওই ১৫ খেলোয়াড়ের তিনজন এবারের বিশ্বকাপের দলে ফেরেন, ৭ জন তারপরও ফিরতে অস্বীকৃতি জানান, আর বাকি ৫ জনকে দলে ডাকাই হয়নি। হোর্হে ভিলদার অধীনেই অবশ্য বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন।
কিন্তু রুবিয়ালেসের এক চুমু কেলেঙ্কারিতে স্পেনের মেয়েদের বিশ্বজয়ই যেন পেছনের পাতার খবর হয়ে গেছে!