গুগলে ২৫ বছরে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে কাকে?

ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, কিন্তু গুগলের নাম শোনেননি, এমন মানুষ বোধহয় খুঁজে পাওয়া যাবে না। যেকোনো ধরনের তথ্য, ফটো, ছবি কিংবা ভিডিও পেতে এই সার্চ ইঞ্জিনের জুড়ি মেলা ভার। 

ইন্টারনেট ব্যবহার করে মুহূর্তেই প্রিয় তারকা থেকে শুরু করে যেকোনো বিষয়ে জানা যায়। এ বছর ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে গুগলের। এ উপলক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে গুগল। 

গত আড়াই দশকে যেসব বিষয় এবং ব্যক্তিকে মানুষ সবচেয়ে বেশিবার খুঁজেছে, তার একটি তালিকা উঠে এসেছে গুগলের ২৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর ভিডিওতে। 

তালিকা অনুসারে, ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া এ সার্চ ইঞ্জিনে ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার খোঁজা হয়েছে বিরাট কোহলির নাম। অবশ্য ব্যাট হাতে দীর্ঘ সময় জুড়ে যা করছেন, তাতে কোহলির নাম না এলেই বরং চমক হতো।  তবে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে কোহলি নয়, এগিয়ে আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, রাগবি, টেনিস- সব খেলা মিলিয়ে রোনালদোর খোঁজখবরই বেশি নিয়েছেন ভক্তরা।

কোহলি প্রথমবারের মতো লাইমলাইটে আসেন ২০০৮ সালে। ভারতকে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শিরোপা জেতানো কোহলি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন সেবছরই। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ব্যাট হাতে একের পর এক কীর্তি গড়ে এলোমেলো করেছেন রেকর্ড বইয়ের পাতা। সম্প্রতি কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ৪৯ ওয়ানডে সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতকের ফিফটি ছুঁয়েছেন কোহলি।

জাতীয় দলের নেতৃত্বের ভারও উঠেছিল কোহলির কাঁধে। মহেন্দ্র সিং ধোনির পরে জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। অবশ্য বছর দুয়েক আগে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন। গত ১৬ বছর ধরে তিনি আইপিএলের দল রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইকন খেলোয়াড়। 

স্টেডিয়ামে ভারতের সমর্থকেরা যে জার্সি পড়ে মাঠে আসে, তাদের অধিকাংশের পিঠে লেখা থাকে কোহলির নাম। মাঠের ক্রিকেট এবং বাইরের কর্মকাণ্ডে কোহলি রীতিমতো আইকনে পরিণত হয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে কোহলিকে ফলো করেন ২৬৫ মিলিয়ন অনুসারী, যা ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

ওদিকে ২০০২ সালে পেশাদার ফুটবলে পা রাখা রোনালদো লাইমলাইটে এসেছেন ২০০৩ সালে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স বালন দ’র এনে দিয়েছে। ২০০৯ সালে দলবদলের বিশ্বরেকর্ড গড়ে রেয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে পথটা আরও চূড়ায় নিয়েছে।

লিওনেল মেসির সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুজনকে সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তুলে দিয়েছে।  মেসি বিশ্বকাপ জিতে অর্জনে তাঁকে ছাপিয়ে গেলেও একক সাফল্যে রোনালদোও কম যান না। সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি গোল, পেশাদার ক্যারিয়ারে ৮০০ গোল, ১২০০ ম্যাচ- একের পর এক মাইলফলক ভাঙছেন রোনালদো। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতা কদিন আগে ভেঙেছেন সবচেয়ে বেশি পেশাদার গোলের রেকর্ডও।

এমন একজনকেই তো মানুষ গুগলে সবচেয়ে বেশি খুঁজবে!