২০২১ টোকিও অলিম্পিকের মাত্র কয়েক মাস আগে চীনের ২৩ সাঁতারুর নিষিদ্ধ ওষুধ টিএমজি গ্রহণ করার প্রমাণ মিলেছিল। তবু বিশ্ব মাদকবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) এই অ্যাথলেটদের অলিম্পিকে অংশ নিতে দিয়েছে। এবং এমন প্রতিযোগীরা তিনটি সোনাও জিতেছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়ামঞ্চে।
চীনা কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল হোটেলের রান্নাঘরের ভুলে অ্যাথলেটদের শরীরে নিষিদ্ধ ওষুধের প্রমাণ মিলেছে। এবং ওয়াডা সে যুক্তি মেনেও নিয়েছিল।
জার্মান টিভি চ্যানেল এআরডি ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের যৌথ তদন্তে উঠে এসেছে এই চমকে দেওয়া তথ্য। ডোপপাপের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সাঁতারুর মধ্যে অনেকে প্যারিস অলিম্পিকেও অংশ নিতে যাচ্ছেন।
এআরডি ও নিউইয়র্ক টাইমস বলছে চীনের ডোপিংবিরোধী এজেন্সি চীনাডার পক্ষ থেকে ওয়াডার কাছে পাঠানো ২০২১ সালের ৬১ পৃষ্ঠার সে প্রতিবেদন তারা পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শিজিয়াঝুয়াংয়ের যে হোটেলে সাঁতারুরা থাকতেন, সেই হোটেলের এক্সটাক্টর ফ্যান, মশলার বাটি এবং ড্রেনে টিমজির নমুনা পাওয়া গেছে।
চীনাডা এটাও বলেছে, সাঁতারুদের মূত্র নমুনায় পারফরম্যান্সবর্ধক এই ড্রাগ নেওয়াটা ঐচ্ছিক ‘হতেই পারে না’। নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, শুধু পিল হিসেবে পাওয়া যায়, এমন একটা নিষিদ্ধ ওষুধ কীভাবে রান্নাঘরে গেল, তার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দেয়নি।
ওয়াডা নিশ্চিত করেছেন, প্রমাণ পেয়ে তারা আর নতুন করে আপিল করেনি। কারণ করোনার কারণে লকডাউন চলায় কোনো বিজ্ঞানী বা তদন্তকারীকে চীনে পাঠানো সম্ভব ছিল না। ওয়াডা পরে সিদ্ধান্ত নেই যে, যেহেতু রান্নাঘর থেকে টিএমজি ছড়ায়নি- এটি জোরালোভাবে প্রমাণ করার অবস্থান তাদের নেই।
বিশ্ব সাঁতারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওয়ার্ল্ড অ্যাকুয়াটিক (ফিনা)ও বলেছে, তারা নিশ্চিত যে ডোপিংয়ের নমুনা পেলেও এই ব্যাপারটা ‘সৎ ও পেশাদার’ভাবেই সামলানো হয়েছিল।
তবে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের ডোপিং বিরোধী সংস্থা চীনের নমুনা যেভাবে প্রদর্শন করা হয়েছে, সে ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। এআরডি বলছে, চীনের এক হুইসলব্লোয়ার (গোপন তথ্য ফাঁস করে দেওয়া ব্যক্তি) জানিয়েছে, ‘রান্নাঘর থেকে ছড়ানোর পুরো ঘটনাটি রূপকথার মতো শোনাচ্ছে আমার কাছে। কর্মকর্তাদের কোনো ব্যাখ্যাই গ্রহণযোগ্য না।’
নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, তারা পাঁচজন ডোপিং বিরোধী বিশেষজ্ঞর সঙ্গে কথা বলেছেন, যাদের মনে হয়েছে চীনের এই তদন্তের প্রাপ্ত তথ্য ‘অগ্রহণযোগ্য।’
২০২০ সাল থেকে চীনের সাঁতারুদের ডোপিং নিয়ে সরব যুক্তরাষ্ট্রের ডোপিং-বিরোধী সংস্থার প্রধান ট্রাভিস টাইগার্ট বলেছেন, ‘সৎ অ্যাথলেটদের পিঠে ছুরি মারার মতো ঘটনা মনে হচ্ছে। যারা নিয়ম মানে এবং একদম সৎভাবে অংশ নেয় তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হলো।
ওয়াডার সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল ডেভিড হাওম্যান বলছেন পুরো ঘটনাটা চমকে দেওয়ার মতো, ‘আমার কাছে প্রথমেই যা মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাপারটা টোকিও অলিম্পিকের জন্য সাঁতারুদের “প্রস্তুত” করার অংশ এটি।’
এক বিবৃতিতে চীনাডা বলেছে তারা ওয়াডা ও ফিনাকে ‘সব প্রমাণ, সিদ্ধান্ত ও দরকারি নথি দিয়েছে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর ওয়াডা আমাদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হয়েছে। ’
সুইমিং অস্ট্রেলিয়া বলছে এমন খবরে তারা নিজস্ব তদন্ত চালাবে। অস্ট্রেলিয়ার তিনবারের বিশ্বকাপ সোনাজয়ী ল্যানি পালিস্টার বলেছেন, ‘এটা যদি সত্যি হয়, তাহলে টোকিও গেমসে যাদের সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়েছে সেই অ্যাথলেটদের জন্য খুবই হতাশাজনক হবে।’