প্যারিস অলিম্পিকে রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যাচ্ছিলেন শার্লট ডুজারডিন। লন্ডন, রিও এবং টোকিও অলিম্পিকে ছয়টি পদক পাওয়া ডুজারডিন প্যারিসে একটি পদক পেলেই ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি অলিম্পিক পদক-ধারী নারী অ্যাথলেট বনে যেতেন।
এবারের অলিম্পিকে ব্রিটেনের হয়ে ড্রেসেজে একক ও দলীয় ইভেন্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল ৩৯ বছর বয়সী ইকুয়েস্ট্রিয়ানের। কিন্তু অনুশীলনে ঘোড়াকে অতিরিক্ত চাবুক মারার দায়ে গতকাল অলিম্পিক থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সবধরনের প্রতিযোগিতাতেই তাঁর অংশগ্রহণে দেওয়া হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
অনুশীলনে একটি ঘোড়াকে লম্বা এক চাবুক দিয়ে বারবার আঘাত করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান পেটা (পিইটিএ) অলিম্পিক থেকে সব ধরনের ইকুয়েস্ট্রিয়ান ইভেন্ট বাদ দেওয়ার আহবান জানিয়েছে।
জানা গেছে, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি চার বছর আগের। ব্যক্তিগত একটি স্টেবলে এক তরুণ রাইডারকে কোচিং করানোর সময় একটি ঘোড়াকে খুব কম সময়ের মধ্যে অনেকবার চাবুক মারতে দেখা গেছে ডুজারডিনকে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পেটার ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ক্যাটি গিয়েরমো বলেছেন, এই ভিডিও দেখে বোঝা যায়, ইকুয়েস্ট্রিয়ান খেলায় প্রাণীদের কী পরিমাণ অত্যাচার করা হয় এবং তিনি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে (আইওসি) এই ইভেন্ট বাদ দিতে বলেছেন, ‘আইওসির প্রতি বার্তাটা খুব পরিষ্কার হওয়া উচিত: অলিম্পিক থেকে ইকুয়েস্ট্রিয়ান ইভেন্ট বাদ দেওয়া হোক। আরও একবার একজন অলিম্পিক রাইডারকে দেখা গেছে একটি ঘোড়াকে অস্বাভাবিক আচরণ করার জন্য বাধ্য করতে দেখা গেছে, শুধু নিজের গৌরবের জন্য। ঘোড়ারা নিজ থেকে এটা করতে চায় না- অত্যাচার ও চাপের মুখে ওরা এসব করে। আধুনিক যুগে আসার সময় এসেছে অলিম্পিকের।’
২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে ইকুয়েস্ট্রিয়ান ইভেন্ট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগেই। ২০২১ টোকিও অলিম্পিকের এক ঘটনায় তীব্র সমালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আধুনিক পেন্টাথলন। সেবার সোনা জয়ের অবস্থানে ছিলেন জার্মানির আনিকা শুলে। কিন্তু শো জাম্পিংয়ের সময় তাঁর ঘোড়া সেইন্ট বে অবস্টেকলের ওপর লাফাতে অস্বীকৃতি জানায়। এসময় শুলে কেঁদে ফেলেন, ওদিকে তাঁর কোচ কিম রেইসনারকে দেখা যায় সেইন্ট বে-কে শারীরিকভাবে আঘাত করতে।
এ ঘটনায় রেইসনারকে টোকিও থেকে জার্মানি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনো অজুহাত দেননি ডুজারডিন, ‘যা ঘটেছে তা আমার সঙ্গে একদম যায় না এবং আমি কীভাবে ঘোড়াদের শিক্ষা দেই বা অন্যদের কীভাবে শিক্ষা দেই, তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। কিন্তু এর কোনো অজুহাত নেই। আমি গভীরভাবে লজ্জিত এবং ওই মুহূর্তে আরও ভালো উদাহরণ সৃষ্টি করা উচিত ছিল।’