প্যারিস অলিম্পিক শুরু হতে না হতেই বিতর্কের মুখে পড়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। বিতর্কটা নেদারল্যান্ডসের বিচ ভলিবল তারকা স্টিফেন ফন দে ভেলদেকে নিয়ে। ২৯ বছর বয়সী ভেলদে এর আগে ১২ বছরের এক ব্রিটিশ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলও খেটেছেন। নেদারল্যান্ডসের বিচ ভলিবলের দলে ভেলদের অন্তর্ভুক্তির পরই চারদিক থেকে সমালোচনা শুরু হতে থাকে।
ইউরোপের একাধিক ক্রীড়া ও সামাজিক সংগঠন এর প্রতিবাদও জানিয়েছিল। ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত একজন কীভাবে অলিম্পিকে সুযোগ পেলেন, এ নিয়ে এবার আইওসির বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী সিয়ারা বার্গম্যান।
ঘটনা ২০১৪ সালের। ১৯ বছরের ভেলদে তখন নেদারল্যান্ডসের অন্যতম সেরা তরুণ বিচ ভলিবল খেলোয়াড়। সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লন্ডনের ১২ বছরের এক কিশোরীর সঙ্গে পরিচয় হয় ভেলদের। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান ভেলদে। এ ঘটনায় ব্রিটিশ ওই কিশোরী পুলিশের কাছে অভিযোগ করলে ভেলদেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৬ সালে চার বছরের জেল হয় ২১ বছর বয়সী স্টিভেনের। তখন অনেকেই স্টিভেনের ক্যারিয়ারের শেষ দেখছিলেন সেখানেই। তবে প্রতিভা বিবেচনায় ভবিষ্যৎ খেলোয়াড়ি জীবনের কথা চিন্তা করে ১২ মাস সাজা খেটেই ২০১৭ সালে মুক্তি দেওয়া হয় ভেলদেকে। টোকিও অলিম্পিকে দলে জায়গা না পেলেও প্যারিস অলিম্পিকে ঠিকই জায়গা করে নেন তিনি।
ধর্ষণের অপরাধে জেল খাটা একজন প্রতিযোগিতায় নামলে অলিম্পিকের সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে, ক্রীড়া বিশ্বের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে- গত কয়েকদিন ধরে এমন অভিযোগ করে আসছিল অনেক সংগঠন। এবার আর অভিযোগ নয়, সরাসরি অলিম্পিক কমিটির দিকে আঙুল তুলেছেন রেপ ক্রাইসিস ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলসের প্রধান নির্বাহী সিয়ারা বার্গমান।
ভেলদেকে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য আইওসিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যায়িত করে সিয়ারা বলেছেন, ‘আপনি একজন শিশুকে ধর্ষণ করা সত্ত্বেও যদি অলিম্পিকে খেলতে পারেন, রোল মডেল হয়ে উঠতে পারেন, এটা সত্যিই হতাশার। ভুক্তভোগীর ওপর এতে গুরুতর প্রভাব পড়ে।’
সিয়ারা আরও যোগ করেন, ‘কীভাবে আমরা এমন জায়গায় পৌঁছালাম, যেখানে শিশু ধর্ষককে পদক জিততে দেখেও তেমন কিছু মনে হয় না। কীভাবে তাঁকে খেলার অনুমতি দেওয়া হলো? আমার মনে হয়, এ বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।’