৪৬ সেকেন্ডে হার মানা অ্যাথলেট পাবেন ৫৮ লাখ টাকা

প্যারিস অলিম্পিকে দুই নারী বক্সারকে খেলার অনুমতি দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। ‘নারী নাকি পুরুষ’- এই বিতর্কের পেছনে বিধিবহির্ভূত এক সিদ্ধান্তের প্রভাব দেখতে পাচ্ছে আইওসি।

ওদিকে যার হেরে যাওয়া এই বিতর্কের সৃষ্টি, তাঁকে ৫০ হাজার ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন (আইবিএ)।   

বিতর্কের শুরুটা গত বৃহস্পতিবার। যখন ওয়েল্টার ওয়েটের শেষ ষোলোতে আলজেরিয়ার ইমান খেলিফের বিপক্ষে মাত্র ৪৬ সেকেন্ডে হার মেনে নেন ইতালির অ্যাঞ্জেলা কারিনি। প্রথম রাউন্ডে আলজেরিয়ানের টানা ঘুষির মুখে পরে হাল ছেড়ে দেওয়া কারিনি রিং ছাড়ার আগে হাতও মেলাননি প্রতিপক্ষের সঙ্গে।

এদিকে এমন এক তরফা লড়াই দেখে খেলিফ ও তাইওয়ানের লিন ইউ-তিংকে অলিম্পিকে লড়তে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, ২০২৩ সালে এ দুজনকে নারীদের বক্সিং থেকে নিষিদ্ধ করেছিল আইবিএ। যেসব অ্যাথলেটের শরীরে পুরুষের এক্সওয়াই ক্রোমোজোম (পুরুষত্বের প্রতীক) পাওয়া যায়, তাদের নারীদের ইভেন্টে অংশ দিতে না দেওয়ার নিয়ম চালু করে তারা।

কিন্তু সুশাসন ও আর্থিক বিষয়ক অনিয়ম দেখিয়ে আইবিএর স্বীকৃতি কেড়ে নিয়েছে আইওসি। প্যারিসে বক্সিং তাই আইওসি-ই আয়োজন করছে। এবং আইবিএর গত বছরের সিদ্ধান্তকে নিয়মবহির্ভূত বলে ঘোষণা দিয়েছে আয়োজকরা।

আবার নতুন করে দুই অ্যাথলেটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হেটক্রাইম’ এর শিকার হতে দেখে আইওসি অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আইবিএ-র  হঠাৎ ও নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্তের বলি হয়েছেন এই দুই অ্যাথলেট। ২০২৩ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের শেষদিকে হঠাৎ কোনো প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের নিষিদ্ধ করেছে। ওদের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত আইবিএ-র প্রধান নির্বাহী ও মহাসচিব একা একা নিয়েছিলেন।’

কিছু কিছু খেলা অ্যাথলেটদের শরীরের টেস্টোস্টেরনের (পুরুষদের শরীরে বেশি মাত্রায় থাকা হরমোন) পরিমাণের একটা সীমা নির্ধারণ করেছে। ওদিকে কিছু খেলা যারা ছেলে হিসেবে বয়:সন্ধি পার করে পরে নারী হয়েছেন, তাদের নারীদের ইভেন্টে অংশ করতে দেয় না।

যৌন বিকাশে ভিন্নতা (ডিএসডি) জিনগত, হরমোন ও যৌনাঙ্গ সংক্রান্ত একটি বিরল শারীরিক অবস্থা। ডিএসডি-র বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন ব্যক্তিরা নারী হিসেবে বেড়ে ওঠেন কিন্তু তাদের শরীরে এক্সওয়াই ক্রোমোজোম থাকে এবং শরীরে টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ ছেলেদের মাত্রায় থাকে। 

আইওসি বলছে, টোকিও অলিম্পিকে যে নিয়মে সবাই খেলেছেন, সেটাই মেনে চলছে তারা, ‘দুই অ্যাথলেটের বিরুদ্ধে যে আগ্রাসন দেখানো হচ্ছে,তা পুরোপুরি ওই নিয়মবহির্ভূত সিদ্ধান্তের কারণে-যা কোনো প্রক্রিয়া না মেনে নেওয়া হয়েছিল। কারণ, এই দুই অ্যাথলেট বহুদিন ধরেই শীর্ষ পর্যায়ে অংশ নিচ্ছেন।’

এদিকে অ্যাঞ্জেলা কারিনি হেরে গেলেও তাঁর জন্য পুরষ্কার ঘোষণা করেছে আইবিএ। এবারের অলিম্পিকে পদক বিজয়ীদের জন্য অর্থ পুরষ্কার ঘোষণা করেছিল তারা। কারিনি শেষ ষোলো পার করতে না পারলেও তাঁকে সোনাজয়ীদের জন্য বরাদ্ধ ৫০ হাজার ডলার (৫৮ লাখ টাকা) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইবিএ। ওদিকে কারিনি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন খেলিফের দিকে। বলেছেন, নিয়ম যদি বলে খেলিফ অংশ নিতে পারবে, তাহলে অংশ নিতে পারা উচিত তাঁর।