গত এপ্রিলে জিয়ামেন ডায়মন্ড লিগের প্রতিযোগিতায় ৬.২৪ মিটার লাফিয়ে বিশ্বব্যাপী হইচই তুলে দিয়েছিলেন সুইডিশ পোলভল্টার আরমান্ড ডুপ্লান্টিস। সেটাই ছিল পোল্ট ভল্টে বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে টোকিও অলিম্পিকে ৬.০২ মিটার লাফিয়ে সোনা জিতলেও অলিম্পিক রেকর্ডটা গড়া হয়নি ২৪ বছর বয়সী এ পোল ভল্টারের।
সে আক্ষেপের ইতি টেনেছেন প্যারিস অলিম্পিকে। গতকাল সোমবার ফ্রান্সের জাতীয় স্টেডিয়াম স্তাদ দঁ ফ্রান্সে ডুপ্লান্টিস ২০১৬ অলিম্পিকে ব্রাজিলের থিয়াগো ব্রাসের গড়া ৬.০৩ মিটারের অলিম্পিক রেকর্ড তো ভেঙেছেনই, গড়েছেন নতুন বিশ্বরেকর্ডও। দর্শক সারিতে উপস্থিত প্রায় ৬৯ হাজার মানুষের সামনে ৬.২৫ মিটার লাফিয়ে নতুন করে বিশ্ব ও অলিম্পিক রেকর্ড সেট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এ সুইডিশ পোল ভল্টার।
এ নিয়ে ৯ বার পোল ভল্টের রেকর্ড ভাঙলেন ডুপ্লান্টিস। একইসঙ্গে বব রিচার্ডসনের পর প্রথম পুরুষ পোল ভল্টার হিসেবে টানা দুই অলিম্পিকে সোনা জিতলেন তিনি। এর আগে ১৯৫২ ও ১৯৫৬ অলিম্পিকে সোনা জিতেছিলেন আমেরিকার বব রিচার্ডস।
ডুপ্লান্টিসের রেকর্ড গড়ার দিনে ৫.৯৫ মিটার লাফিয়ে রুপা জিতেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্যাম কেনড্রিকস। প্রতিযোগিতার ব্রোঞ্জ উঠেছে ৫.৯০ মিটার লাফানো গ্রিসের পোল ভল্টার ইমানুইল কারালিসের হাতে।
আগের বিশ্ব রেকর্ডের চেয়ে ১ সেন্টিমিটার বেশি লাফানোর অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ডুপ্লান্টিস বলেছেন, ‘এটা এমন এক ধরনের অনুভূতি, যা কখনো বাস্তব বলে মনে হয় না। মনে হয় আমি উড়ছি। এর বাইরে আমি কী বলতে পারি!’
রেকর্ড ভাঙার মঞ্চে দর্শক সারি থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন ডুপ্লান্টিস। এ বর্ণনা করতে গিয়ে এ পোল ভল্টার বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে আমি অলিম্পিক মঞ্চে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছি। সম্ভবত পোল ভল্টারদের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় মঞ্চ। আমি ছোট বেলা থেকেই স্বপ্ন দেখেছি অলিম্পিকে বিশ্ব রেকর্ড ভাঙার। এখন পর্যন্ত যত জায়গায় প্রতিযোগিতা করেছি, সবচেয়ে বেশি উৎসাহী দর্শকের সামনে সেটা করেই ফেললাম।’