প্রেমিকার গায়ে লাগানো আগুনে এবার নিজেই পুড়ে মরলেন

উগান্ডার হয়ে অলিম্পিকে অংশ নেওয়া অ্যাথলেট রেবেকা চেপ্তেগেই গত বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেছেন। প্যারিস অলিম্পিকের ম্যারাথনে অংশ নেওয়া এই অ্যাথলেটের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর সাবেক প্রেমিক।

জমিজমা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে গত রোববার চার্চ-ফেরত ৩৩ বছর বয়সী অ্যাথলেটের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন তাঁর প্রেমিক ডিকসন এনডিয়েমা। তবে চেপ্তেগেইয়ের গায়ে আগুন লাগানোর সময় এনডিয়েমার গায়েও আগুন লেগেছিল। সে আগুনে এতদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এনডিয়েমা আজ মৃত্যুবরণ করেছেন।

চেপ্তেগেইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর এক প্রতিবেশী বলেছিলেন, অ্যাথলেট সন্তানসহ চার্চে থাকার সময় বাসায় ঢুকে পড়েন এনডিয়েমা। চার্চ থেকে চেপ্তেগেই ফেরার পর তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় সাবেক প্রেমিক। এ সময় বাঁচার জন্য দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চেপ্তেগেই।

চিৎকার শুনে বেরিয়ে আসেন প্রতিবেশী অ্যাগনেস বারাবারা। কিন্তু তাঁরা সহযোগিতা করার আগেই এনডিয়েমা এগিয়ে এসে আবার পেট্রোল ঢালেন। এ সময় আগুন এনডিয়েমার গায়েও লাগে। সাবেক প্রেমিক তখন নিজেকে বাঁচানোর জন্য দৌড় দেন। প্রতিবেশীরা তখনই কেবল চেপ্তেগেইকে সাহায্য করতে পেরেছিলেন।

কিন্তু শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া চেপ্তেগেইকে বাঁচানো যায়নি। তবে ৩০% পুড়ে যাওয়া এনডিয়েমার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু সোমবার রাতে আইসিইউতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মই টিচিং অ্যান্ড রেফারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ওয়েন মেনাচ বিবিসিকে বলেছেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি। তিনি আগুনে আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।’

পুলিশ জানিয়েছি চেপ্তেগেইকে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছিল এনডিয়েমাকে। কিন্তু অ্যাথলেটের পর একই হাসপাতালে মৃত্যু হলো এনডিয়েমার।

গত তিন বছরে এ নিয়ে কেনিয়াতে তিন নারী অ্যাথলেটের মৃত্যু হলো পারিবারিক সহিংসতায়। ২০২১ সালে বিশ্বরেকর্ডধারী অ্যাগনেস টিরোপকে ছুরিকাঘাতে মারা হয়। ছয় মাস পর ডামারিস মুতুয়াকে গলা টিপে খুন করা হয়। দুই ক্ষেত্রে তাঁদের জীবনসঙ্গী প্রধান আসামি।