প্যারিস অলিম্পিকে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন আলজেরিয়ার ইমান খেলিফ ও চীনের লিন ইউ-তিং। এ দুজন নারী বক্সার আসলেই ছেলে নাকি মেয়ে- এ নিয়েই ছিল বিতর্কটা। তাঁরা গত বছর ভারতে হওয়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে লৈঙ্গিক যোগ্যতা নির্ধারণী টেস্টে পাস করতে পারেননি। তাঁদের দেহে মেয়েদের তুলনায় পুরুষের হরমোনের আধিক্য ছিল। যা উঠে আসে টেস্টোস্টেরন টেস্টে।
এবার কেনিয়ার এক নারী অ্যাথলেটের কারণে আবারও আলোচনায় টেস্টোস্টেরন। পুরুষের মতো শক্তি পেতে টেস্টোস্টেরন (পুরুষের দেহে বেশি মাত্রায় থাকা হরমোন) নিয়েছিলেন এমাকুলেট আনিয়াঙ্গো। পাশাপাশি রক্ত বৃদ্ধিকারী ইপিও হরমোন গ্রহণ করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী এ ক্রস-কান্ট্রি দৌড়বিদ।
কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ডোপ টেস্টে ধরা পড়ে যান। নিষিদ্ধ এ ড্রাগ গ্রহণ করায় গত শুক্রবার অ্যাথলেটিক্স ইনটিগ্রিটি (এআইইউ) ইউনিট তাঁকে ৬ বছরের নিষেধাজ্ঞা দেয়।
আনিয়াঙ্গো গত জানুয়ারিতে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন দারুণ এক কীর্তি গড়ে। মাত্র দ্বিতীয় নারী অ্যাথলেট হিসেবে ১০ কিলোমিটার শেষ করেছিলেন ২৯ মিনিটের মধ্যে (২৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড)। ভ্যালেন্সিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এ প্রতিযোগিতা। তবে গত মাসে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হন তিনি। এবার সেই নিষেধাজ্ঞা পাকাপাকি হলো।
এআইইউয়ের তথ্যানুসারে, গত সেপ্টেম্বরে আনিয়াঙ্গো জানিয়েছিলেন, কীভাবে তার শরীরে ইপিও ও টেস্টোস্টেরন এল, সেটা তিনি জানেন না। তবে সে সময় এটা স্বীকার করেছিলেন যে, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে অজ্ঞান অবস্থায় তাঁকে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল।
আনিয়াঙ্গোর ভাষ্যমতে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু গ্রহণ করেননি বা ইনজেকশন দেননি। এআইইউ তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি এবং এ দৌড়বিদের বিরুদ্ধে ডোপিং নীতিমালা ভঙ্গের অভিযোগ আনে। এ অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য আনিয়াঙ্গোর সামনে গত ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দেয় এআইইউ। কিন্তু এ সময় স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ বা যুক্তি প্রদান করতে পারেননি আনিয়াঙ্গো। একইসঙ্গে ডোপ টেস্টের বিভিন্ন পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসতে থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েন ২৪ বছর বয়সী এ অ্যাথলেট।
এআইইউ জানিয়েছে, আনিয়াঙ্গোর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শুরু হয়েছে গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। তবে গত ৩ ফেব্রুয়ারির পর যত ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি, সেখানে তাঁর সবগুলোর ফল বাতিল করা হবে।
উল্লেখ্য, গত মার্চে সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ক্রস-কান্ট্রি চ্যাম্পিয়নশিপে চতুর্থ হয়েছিলেন তিনি। এ প্রতিযোগিতায় দলগত ইভেন্টে সোনা জিতেছিল কেনিয়া।