মৃত্যু এভাবেও আসে!
এক ছেলে ‘হ্যামার থ্রো’তে অংশ নিচ্ছিলেন, সেটি দেখতে স্ত্রী ও আরেক ছেলেকে নিয়ে মি. ওয়েইড ল্যাংস্টন বসে ছিলেন গ্যালারিতে। হ্যামার থ্রো-তে সাধারণত মাঠ আর গ্যালারির মাঝে নিরাপত্তা বেষ্টনি থাকে, সেটি পেরিয়েও যে একটা হ্যামার গ্যালারিতে চলে আসবে – সেটা কে কল্পনা করেছিল!
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোতে গত রোববার ইনডোর হ্যামার থ্রো ইভেন্টে অকল্পনীয় কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সেই ঘটনাই ঘটেছে। ল্যাংস্টনের ছেলের সঙ্গেই অংশ নেওয়া আরেক প্রতিযোগির ছোঁড়া হ্যামার চলে আসে গ্যালারিতে। এসেছে একেবারে ল্যাংস্টন এবং তাঁর স্ত্রী ও আরেক ছেলে যেখানে বসে ছিলেন, সেদিকেই। স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে তাঁদের আগলে রাখেন সাহসী ল্যাংস্টন। কিন্তু নিজে আর বাঁচতে পারলেন না। ৭.২৬ কেজি ওজনের ভারি হ্যামার ছুটে আসে তাঁর ৫৭ বছর পেরোনো জীবনের যমদূত হয়ে।
ইউনিভার্সিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘একজন প্রতিযোগির ছোঁড়া হ্যামার স্বীকৃত মাপের সীমানা পেরিয়ে ছুটে এসে গায়ে আঘাত করায়’ এক ব্যক্তি মারা গেছেন। প্রতিযোগিতা এরপর আর চালিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। সেখানেই চিকিৎসকেরা ছুটে আসেন, তবে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ল্যাংস্টন। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতার বাকি অংশ আর কখনো করা সম্ভব হবে কি না, এ নিয়েই তাঁরা সংশয়ে।
ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডোর চ্যান্সেলর জেনিফার সোবানেত বলেছেন, ‘ভয়ংকর এই দুর্ঘটনায় আমাদের সবারই মন ভেঙে গেছে। সবাইকে যেভাবে সম্ভব সমর্থন জানানোতেই এখন আমাদের যত মনোযোগ।’