ধাওয়া করছিল পুলিশ, নিজের গুলিতে খেলোয়াড়ের মৃত্যু

গত ডিসেম্বরে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনায় পড়েন কাইরেন লেসি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ফুটবল লিগের (এনএফএল) দল লুসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসিভার হিসেবে খেলতেন তিনি। ওই দুর্ঘটনায় একজন মারা গেলে মানুষ হত্যার দায়ে ফেসে যান লেসি। তাঁর নামে মামলাও হয়।

পরে বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান সাবেক রিসিভার। এতে থেমে যায় তার পেশাদার ক্যারিয়ার। এবার চিরতরেই থেমে গেছেন লেসি। মাত্র ২৪ বছর বয়সে মারা গেছেন সাবেক এলএসইউ রিসিভির। লেসির আইনিজীবী ও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে।

হ্যারিস কাউন্টি শেরিফের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালাতে গিয়ে নিজের গুলিতেই মারা গেছেন লেসি।

একই সূত্রের বরাত দিয়ে ক্রীড়া বিষয়ক আরেক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন জানিয়েছে, পুলিশের ধাওয়ায় পালাতে গিয়ে লেসির গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। পুলিশ তাঁকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পেয়েছে। ওই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেসি আত্মহত্যা করেছেন।

ফক্স ২৬ হাউস্টন নামের আরেক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পরিবারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ার পর গুলি বের করে মাটির দিকে গুলিও ছুড়েছিলেন লেসি। এ ঘটনায় পুলিশকে ফোন করেন তাঁরা। ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যান লেসি।

পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা লেসিকে খোঁজা শুরু করেন। একটি ট্রাফিক সিগন্যালে আটকানোর চেষ্টা করলে লেসি গাড়ি না থামিয়ে পালাতে থাকেন। এরপর কয়েক মাইল তাঁকে ধাওয়া করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত টেক্সাসের স্প্রিং এলাকায় তাঁর গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর ওই গাড়িতে লেসিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন তাঁরা।

লেসির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তাঁর আইনজীবী ম্যাথিউ ওরি ইএনপিএনকে বলেছেন, ‘আমরা গভীর দুঃখের সঙ্গে লেসির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। এই মুহূর্তে মিডিয়া ও সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের অনুরোধ, তারা যেন লেসির পরিবারকে একটু সময়-সুযোগ দেয়, যাতে তারা শোক পালন করতে পারে।’

এর আগে সর্বশেষ মৌসুমে এলএসইউয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৯টি রিসিভিং টাচডাউন করেছিলেন এবং চলতি এপ্রিল মাসের ড্রাফটেও তাঁর নাম দিয়েছিলেন। তবে গত ডিসেম্বরের গাড়ি দুর্ঘটনাটাই তাঁর জীবন ওলট-পালট করে দেয়।

লেসির নামে অভিযোগ, তিনি অতিরিক্ত গতিতে নিষিদ্ধ ওভারটেকিং জোনেও অন্য গাড়িকে ওভারটেক করে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে একটি মোটরবাইককে ওভারটেক করতে গিয়ে অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় লেসির গাড়ির। এ ঘটনায় হারম্যান হল নামের ৭৮ বছর বয়সী একজন গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়, লেসি ওই সময় দুর্ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সে কারণে লেসির বিরুদ্ধে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, গুরতর আঘাত করে পালিয়ে যাওয়া ও অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা হয়। পরবর্তীতে ১ লাখ ৫১ হাজার ডলার জরিমানা দিয়ে জামিন নেন লেসি।

সে ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে লেসির আইনজীবী বলেছেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে মামলাটা পুনরায় পর্যালোচনা করলে সব অভিযোগ বাতিল হয়ে যাবে। মামলাটি আগে কীভাবে পরিচালিত হয়েছে- সেটা জানতে একটি স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ পুনঃতদন্ত প্রক্রিয়ার চালুর দাবি করব।’

লেসির মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্টে তাঁর বাবা কেনি লিখেছেন, ‘আমাদের জীবন চিরতরে বদলে গেছে, এটা কখনোই স্বাভাবিক হবে না। এখানকার চেয়ে ওপারেই আমার সন্তানকে বেশি প্রয়োজন মনে করেছেন ঈশ্বর। এটা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়। তবে আমাদের পরিবারের প্রতি যে ভালোবাসা আর সহানুভূতি দেখাচ্ছেন, আশা করি সেটা এ দুঃখ কাটাতে সাহায্য করবে।’