১৫ বছরেই এক সঙ্গে তিন জায়গায় চাকরি, খুলেছে নিজের প্রতিষ্ঠানও

এখনো ১৬ বছর হয়নি জশ স্মিথের। এরই মধ্যে তিনটি ক্রিকেট ক্লাবের প্রধান মাঠকর্মীর (হেড গ্রাউন্ডসম্যান) চাকরি সামলাচ্ছে। দুই বছর আগেই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ফেলেছে এই কিশোর।

ইয়র্কশায়ারের গ্রাম এমলেতে জন্ম নেওয়া ইংলিশ কিশোর গ্রাউন্ডসম্যান দুনিয়ায় প্রজিডির রূপ নিয়েছে। এরইর মধ্যে হাডারসফিল্ডের তিনটি ক্লাবের হেড গ্রাউন্ডসম্যানের দায়িত্ব পালন করছে। এমনকি ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের হাডারসফিল্ড টাউনের মূল মাঠ কার্কলিস স্টেডিয়ামের ম্যাচ ডের পিচ প্রস্ততিতেও তাকে ডাকা হচ্ছে।

জশের দক্ষতা গত বছরই নজরে পড়েছে কার্ট ম্যাকডেরমটের। শেপলে ক্রিকেট ক্লাবের উইকেট বানানোর পর সেটার ছবি পোস্ট করেছিল জশ। তা দেখেই এই কিশোরের দক্ষতা টের পান বিশ্বখ্যাত লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের প্রধান গ্রাউন্ডসম্যান।

গত আগস্টে লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। সে ম্যাচের উইকেট প্রস্তুতের আগে জশকে একদিনের জন্য আমন্ত্রণ জানান কার্ল। মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক গ্রাউন্ডসম্যান সাহায্য করেছিল লর্ডসের উইকেট প্রস্তুতিতে। এবং সে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন ইয়র্কশায়ারে বেড়ে ওঠা জো রুট।

এই বয়সে খেলা ফেলে জশের মাঠ প্রস্তুতিতে এত আগ্রহের পেছনে মূল ভূমিকা লন মোয়ারের। হাঁটতে শেখার পর থেকেই ঘাস কাটার যন্ত্র বা ইঞ্জিনচালিত যেকোনো কিছুতে বাড়তি আগ্রহ দেখিয়েছে সে। সে আগ্রহ খেলার মাঠের দিকে নিয়ে গেছেন তার বাবা। 

ওয়েকফিল্ডের কাছে রেন্টথর্পে বাবা জনি স্মিথকে ক্রিকেট খেলতে দেখতে গিয়েছিল জশ, ‘’আমি সরাসরি দেখলাম কীভাবে ক্রিকেটের উইকেটের যত্ন নেওয়া হয়। এবং তখন বোঝা গেছে যত দ্রুত সম্ভব আমি এই কাজে যুক্ত হয়ে পড়ব।’

ছোটবেলা থেকেই মাঠকর্মী হওয়ার আগ্রহ জশের। ছবি: সংগৃহীত

বাবার কার্কবার্টনে যোগ দেওয়ার পর উইকেট বানানোর কাজে সাহায্য করার সুযোগ পায় জশ এবং সাহায্যকারী থেকে প্রধান মাঠকর্মী বনতে সময় লাগেনি। এত দ্রুত খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে যে শেপলে ও কার্কহিটনের হেড গ্রাউন্ডসম্যান বনে গেছে। প্রতি মাঠে মাসে অন্তত ৩০ ঘণ্টা সময় দিতে হয় তাকে। আর এ কাজে তাঁর সহযোগী বন্ধু ১৬ বছরের ওলিভার হে। 

ম্যাচের ১০ দিন আগ থেকে উইকেট নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়, ‘এখন একটু চ্যালেঞ্জিং সময় কারণ ক্রিকেট মৌসুম শুরু হবে, আর আমার জিএসএসই (পাবলিক পরীক্ষা) দুই সপ্তাহ প্র শুরু হবে। ক্রিকেট মাঠের যত্ন নিতে রাত সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত বাইরে থাকা লাগে।’

পরীক্ষায় যেমনই করুক, এরই মধ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সেরে রেখেছে জশ। জেএস স্পোর্টস টার্ফ নামের একটি প্রতিষ্ঠান খুলে ফেলেছে সে। ১৪ বছর বয়সেই গ্রাউন্ডস মেইনটেনেন্স অ্যাসোসিয়েশন (জিএমএ) লেভেল ওয়ান সার্টিফিকেট পেয়ে গেছে।

আগামী সেপ্টেম্বর বার্নসলি কলেজে দুই বছরের একটি কোর্সে ভর্তি হবে। দুই বছরের স্পোর্টস টার্ফ অ্যান্ড গ্রিন কিপিং অ্যাপ্রেন্টিসশিপ কোর্সটিতে জিএমএ লেভেল টু ও থ্রি-ও হয়ে যাবে তার। এরপর শুধু লেভেল ফোর বাকি থাকবে। 

নিজের প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারিত করতে অবশ্য লেভেল ফোর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না জশ। নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সব ধরনের খেলার মাঠেই কাজ নিতে চায় সে, ‘আমি চ্যালেঞ্জ পছন্দ করি। আমি সবসময় খোলা বাতাসে থাকতে চাই। ঘরে থাকি না।’ আপাতত এই শীতে কোনো ফুটবল বা রাগবি মাঠের দেখভালের সুযোগ খুঁজছে সে।

আগামী ১৮ মে ১৬ তে পা দিতে যাওয়া একজনের জন্য বেশ ব্যস্ত এক সূচি!