জেনেভা শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর মধ্য দিয়ে যাওয়া পথে তিনি দৌড়েছেন ৫ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট। অতিক্রম করেছেন ফুল ম্যারাথনের পথ, অর্থাৎ ৪২.১৯৫ কিলোমিটার।
অনানুষ্ঠানিক ফল বলছে, এবারের জেনেভা ম্যারাথনের ‘ফুল ম্যারাথনে’ এটাই বাংলাদেশের উৎস করের পারফরম্যান্স। গত পরশু বিশ্বের প্রায় ১৩৮টি দেশের ২৫ হাজারেরও বেশি দৌড়বিদকে নিয়ে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ এই ম্যারাথনে শেষ পর্যন্ত ৩১৮৩তম হয়েছেন উৎস। পোডিয়াম তো আর এত সহজে ধরা দেয় না, তবে ইউনিসেফের দাতব্য কাজের অংশ এই ম্যারাথনে বাংলাদেশের একজন দৌড়বিদের ফুল ম্যারাথন সফলভাবে শেষ করাও উদ্যাপন করার মতোই ব্যাপার।
ম্যারাথনের সংস্কৃতি বাংলাদেশে এখনো গড়ে ওঠার পথে। উৎসরও দৌড়ের প্রতি টান তৈরি হয়েছে ২০২৩ সাল থেকে, মূলত শারীরিক সুস্থতা আর মানসিক প্রশান্তির জন্যই দৌড়ানো শুরু তাঁর। ঢাকার বিভিন্ন হাফ-ম্যারাথনে দৌড়াতে দৌড়াতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র উৎসর এক সময়ে টান তৈরি হয়ে গেছে দৌড়ের প্রতি। বর্তমানে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন, জেনেভাতেই মর্যাদাপূর্ণ ম্যারাথনটাতে দৌড়ানোর সুযোগ আর হাতছাড়া করেননি।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পতাকা হাতে ম্যারাথনের ফিনিশিং লাইনে পৌঁছানোর তৃপ্তিই থেকেছে উৎসর কণ্ঠে, ‘এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের পতাকা বিশ্বের অন্যতম বড় ম্যারাথনে তুলে ধরতে পারা আমার জন্য বিশাল সম্মানের।’
ম্যারাথন শেষ করার পথে চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও উঠে এসেছে তাঁর বর্ণনায়, ‘জেনেভা ম্যারাথন ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। হিমেল বাতাস আর পাহাড়ি ট্র্যাকের মাঝে ৪২.১৯৫ কিলোমিটার দৌড় সম্পন্ন করা সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের পতাকাটি হাতে নিয়ে যখন ফিনিশিং লাইনে পৌঁছাই, তখন সমস্ত কষ্ট সার্থক মনে হয়েছে।’
এক নজরে জেনেভা ম্যারাথন
শুরু: ২০০৫ সালে
ক্যাটাগরি: ফুল ম্যারাথন, হাফ ম্যারাথন, ১০ কিলোমিটার, রিলে ম্যারাথন, হ্যান্ডবাইক ও হুইলচেয়ার রেইস, নারী (৫ কিমি) ও শিশুদের (১-৫ কিমি) জন্য বিশেষ দৌড়।