পাকিস্তানের কারাকোরাম পাহাড় চড়তে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন দুইবারের স্বর্ণজয়ী জার্মান অলিম্পিয়ান লরা ডালমাইয়ারের। জার্মানির এই বায়াথলন চ্যাম্পিয়ন গত সোমবার পাকিস্তানের পর্বতারোহণের সময় পাথরের আঘাতে মারা যান। তিন দিন আগে লরার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভর হয়নি।
বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, লরা ডালমাইয়ার কারাকোম পাহাড়ে চড়ার সময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন মারিনা ইভা। দুর্ঘটনার পর ইভা জরুরি সেবায় যোগাযোগ করেছিলেন। প্রায় ৫৭০০ মিটার উচ্চতায় ঘটা দুর্ঘটনার পর লরাকে উদ্ধারের জন্য জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ দল দ্রুতই উদ্ধার কাজ শুরু করে। কিন্তু বিরূপ আবহাওয়ায় তাতে বিঘ্ন ঘটে।
ডালমাইয়ারের ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বুধবার জানিয়েছে, ২৮ জুলাই দুর্ঘটনার দিনই লরার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। জার্মান এই অ্যাথলেটের মৃত্যুর পর তাঁর ইন্সটাগ্রামে একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘লরার স্পষ্ট ও লিখিত ইচ্ছা ছিল, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে কেউ যেন তাঁকে উদ্ধার করতে নিজের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে। তাঁর ইচ্ছা ছিল এমন ঘটনায় তাঁর দেহাবশেষ যেন পর্বতের মধ্যেই থাকে। এটি তাঁর স্বজনদেরও চাওয়া, লরার শেষ ইচ্ছাকে যেন সম্মান জানানো হয়।’
সেই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘বর্তমান প্রতিকূল আবহাওয়া এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লাইলা পিকে অবস্থিত লরার মরদেহ উদ্ধার করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেখানে পৌঁছানোও কঠিন।’
লরার মৃত্যুতে জার্মান অলিম্পিক স্পোর্টস কনফেডারেশন জানায়, ‘তিনি একজন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের চেয়েও বেশি কিছু - তিনি ছিলেন হৃদয়বান, দারুণ মানসিকতা এবং দূরদর্শিতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তি।’
জার্মানির হয়ে দুবার শীতকালীন অলিম্পিকে পর্বতারোহণের অভিজ্ঞতা আছে ডালমাইয়ারের। ২০১৮ পিয়ংচ্যাং অলিম্পিকে দুটি সোনা ও একটি ব্রোঞ্জ জিতেছেন ৩১ বছর বয়সী এই অ্যাথলেট। ইতিহাসের প্রথম নারী হিসেবে একই অলিম্পিকে স্প্রিন্ট ও পারস্যুট দুই ইভেন্টেই সোনা জিতেছেন লরা।
২০১৯ সালে অবসরের আগে ৫টি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে তিনি মোট ১৫টি পদক জেতেন, যার মধ্যে ৭টিই সোনা।