জোবেরা রহমান লিনু 

গিনেসের রেকর্ডবুকে নাম উঠেছে ২৪ বছর আগেই, এবার পেলেন স্বাধীনতা পুরস্কার

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা হয়েছে। যেখানে ক্রীড়াঙ্গন থেকে স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের (টিটি) কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু।

আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত হয়। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। 

এ বছর ক্রীড়াঙ্গন থেকে একজনই পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার। 
  
বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনুর নামের পাশে আছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। ১৬ বার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তিনি গিনেসবুক ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়েছিলেন। ধারাবাহিক সাফল্য নিয়ে ২০০২ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখান তিনি।

গিনেস রেকর্ডের সম্মাননা হাতে জোবেরা রহমান লিনু। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৪ থেকে ২০০২ - দীর্ঘ ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে অসংখ্য অর্জন জোবেরা রহমান লিনুর নামের পাশে। শুরুটা করেছিলেন মাত্র ৯ বছর বয়সে, শেষ টানেন ৩৭ বছর বয়সে। ১৯৭৪ সালে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে বড় বোন মুনিরা রহমান হেলেনের কাছে হেরে রানারআপ হন। বড় বোন হেলেনের চেয়ে বয়সে ৮ বছরের ছোট লিনু। 

শুরুটা রানারআপ হয়ে হলেও দুই বছর পরেই বদলে যায় সব। ১৯৭৭ সালে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট ওঠে ১২ বছরের লিনুর মাথায়। জেতেন ট্রিপল ক্রাউন। এরপর যা যা করেছেন, তাতে দেশের টিটি আর লিনু সমার্থক।

ক্যারিয়ারে টানা পাঁচবার শিরোপা (১৯৯৪ থেকে ৯৮) জিতেছেন। টানা চারবার করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন দুবার (১৯৮২-৮৬ ও ১৯৮৯-৯২)। ক্যারিয়ারের শেষ দুই বছরেও (২০০০ ও ২০০১) শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন। 

জোবেরা রহমান লিনুসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ বছর দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা পেয়েছেন ১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠান।  

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ ও মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর); বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম; চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল; সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর); সংস্কৃতিতে এ কে এস হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বশির আহমেদ (মরণোত্তর); পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ); সমাজসেবা/জনসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), এসওএস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সাইদুল হক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর); জনপ্রশাসনে পি এইচ ডি কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর); গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।