ম্যাচের ফলাফল বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটপ্রেমীকে শান্তি দেবে না। দেবে না স্বস্তি। নেদারল্যান্ডসের কাছে ৮৭ রানে হারার পর শান্তি-স্বস্তির আশা করাটা বাড়াবাড়ি অবশ্য।
তাই বলে কি এই ম্যাচ থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতায় কিছুই নেই? অবশ্যই আছে। অর্জনের ভাণ্ডার একদমই শূন্য নয়। আর এ অর্জনগুলিই পরের ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে নিশ্চিত। কী সেগুলো? আসুন, বুকে নতুন আশার বীজ বুনে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক -
ছোট দলের বিপক্ষে শক্তির অপচয় না করা
আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জেতা। সে লক্ষ্যে ফাইনাল ম্যাচে যত বেশি পূর্ণশক্তির দল নামানো যায়, যত বেশি ঝরঝরে থাকা যায় - তত ভালো। খামোকা নেদারল্যান্ডসের মতো ‘পুঁচকে’ দলকে হারানোর পেছনে শক্তি অপচয় করে কী লাভ?
বড় দলগুলোকে আগেই সতর্ক না করে দেওয়া
ভুলে যাওয়া যাবে না, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারা বাংলাদেশ এর আগে হেরেছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষেও - যাদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এভাবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে হেরে যাওয়াও বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অংশ। ফাইনালের আগে জিতে গেলে আমাদের শক্তিমত্তা ও কৌশল সম্পর্কে বড় দলগুলো আগেই জেনে যেত, সে অনুযায়ী ফাইনালে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাত। খামোকা আগেভাগে শত্রুপক্ষকে সতর্ক করে দেওয়ার আদৌ কোনো অর্থ আছে কি?
শান্তিমতো এল ক্লাসিকো দেখা
ম্যাচের ফিক্সচার প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের খেলাপ্রেমী জনগণ বেশ দোটানায় পড়ে গিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ইনিংসের মাঝপথেই যে স্প্যানিশ লিগের বিখ্যাত এল ক্লাসিকো শুরু হওয়ার কথা! রেয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনার মহারণ, না বাংলাদেশের খেলা - কোনটা দেখবে মানুষ? সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন খোদ সাকিব-মুশফিকরাই। টপ-মিডল অর্ডার তাড়াতাড়ি ধসে পড়ে নিশ্চিত করেছে, নির্ঝঞ্ঝাটে বেলিংহ্যাম-লেভানডফস্কিদের খেলা দেখা যাবে!
রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি
রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটা দিন কেটেছে আজ। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মানুষ যেন খেলার মতো ব্যাপারে নিজেদের অযথা ব্যস্ত না রাখে, সেটাই নিশ্চিত করেছে জাতীয় ক্রিকেট দল
এখন থেকে শুধুই উন্নতি
হারের পর অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেছেন, ‘এর চেয়ে খারাপ খেলা সম্ভব না।’ যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক ধরণের সুখবরই। অর্থাৎ, বাংলাদেশ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যার নিচে নামা আর কোনোভাবেই সম্ভব না। তবে উন্নতি করা সম্ভব। একে সুসংবাদ বলবেন না তো কোনটাকে বলবেন?
ক্রিকেটের বিস্তারে ভূমিকা রাখা
এমনিতেই ক্রিকেটের বিশ্বকাপে মাত্র দশ দল অংশ নেয় দেখে এই টুর্নামেন্টকে বিশ্বকাপ বলতে অনেকের ঘোর আপত্তি। ফুটবলের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে যেখানে দিন দিন অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়ছে, ক্রিকেট উল্টো পথে হাঁটছে যেন। এমন অবস্থায় নতুন নতুন দলকে ক্রিকেট খেলতে আগ্রহী করা, তথাকথিত আনকোরা দলগুলোও যেন ক্রিকেটপ্রেমীদের আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে, সে জন্য আড়ালে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ - বিশ্বমঞ্চে তাদের কাছে হারার মাধ্যমে। ২০০৩ বিশ্বকাপে কেনিয়া ও কানাডার কাছে হারা বাংলাদেশ পরের বিশ্বকাপেই হেরেছিল আয়ারল্যান্ডের কাছে। এবার হারল নেদারল্যান্ডসের কাছে। ভেবে দেখুন, ২০০৭ বিশ্বকাপের আগে ক’জন জানত আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট খেলে? টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে সহযোগী দেশের কাছে সবচেয়ে বেশি হার এখন বাংলাদেশের। বিশ্বমঞ্চে ক্রিকেটের অপরিচিত দেশগুলোকে এভাবেই অকাতরে জয় বিলিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যাতে নতুন নতুন দেশও ক্রিকেট খেলার সাহস পায়।
আর কোনো পরাশক্তিকে দেখেছেন ক্রিকেটের বিস্তারে এমন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে?