কাঁটাচামচ দিয়ে সিঙাড়া খেয়ে শিষ্টাচার শেখালেন!

সিঙ্গারা বা সমুচাও যে কাঁটাচামচ ও ছুরি দিয়ে কেটে খেতে হয়, তা-ই একটি ভিডিও-তে হাতে কলমে দেখিয়েছেন ভারতীয় এক ব্যক্তি। আর তাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়ে গেছেন ভাইরাল। রীতিমতো নেটিজেনদের মজা ও উপহাসের পাত্রে পরিণত হয়েছেন তিনি। 

টেবিলে শিষ্টাচার মেনে কীভাবে খাবার খেতে হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন ভারতীয় এই ব্যক্তি। সম্প্রতি একটি ভিডিও-তে দেখা যায়, তিনি কাঁটাচামচ ও ছুরি ব্যবহার করে সিঙাড়া বা সমুচা খাওয়ার পদ্ধতি শেক্ষাচ্ছেন ছাত্রছাত্রীদেরকে। 

প্রথমে তিনি কাঁটাচামচের সাহায্যে সিঙাড়ার উপর চাপ দিয়ে এটিকে স্থির করেন, এরপর অতি সাবধানে ছুরি দিয়েন কাটেন একে। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিঙাড়াটিকে মাঝখান দিয়ে কাটা যাবে না এবং খেয়াল রাখতে হবে যাতে এটি ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে না যায়। এই পর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদেরকে সিঙাড়ার ছোট ছোট টুকরো চামচে নিয়ে, সস বা চাটনিতে ডুবিয়ে খেতে বলেন। এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করার মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীদের অনুশীলন করার পরামর্শ দেন তিনি। 

সিঙাড়া মূলত ভারতীয় উপমহাদেশের জনপ্রিয় নাস্তা হলেও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলেও এর বেশ কদর রয়েছে। তবে এই খাবারটি সাধারণত হাত দিয়েই উপভোগ করা হয়, কাঁটাচামচ বা ছুরি দিয়ে নয়!

এক্স প্ল্যাটফর্মে ‘জিতএন২৫’ (@JeetN25) নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা ছিল ‘সামোসা ইটিং এটিকেট’, অর্থাৎ সামোসা (সিঙাড়া) খাওয়ার ব্যবহার-বিধি বা শিষ্টাচার।

ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৯৫ হাজার বার দেখা (ভিউ) হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক হাস্যরস ও উপহাসের জন্ম দিয়েছে ভিডিওটি। পাশাপাশি এটি পুরোনো একটি বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। আর তা হচ্ছে, নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নাকি পশ্চিমা শিষ্টাচার, কোনটিকে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ? 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে মজার মজার সব মন্তব্য করেছেন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা। কাঁটাচামচ ও ছুরি দিয়ে সিঙাড়া খাওয়াকে ‘অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন একজন। আরেকজন রসিকতার সুরে বলেছেন, ‘আমার পূর্বপুরুষরা ঝাল চাটনিতে ডুব দিয়ে কাঁদছেন।’

তৃতীয় একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমি আজ সবচেয়ে হাস্যকর জিনিস দেখলাম। পাশ্চাত্যে সংরক্ষিত খাবারের মধ্যে বেশিরভাগই হয় মাংস-ভিত্তিক, তাই তাদের ছুরি ও কাঁটাচামচ ব্যবহার করে খেতে হতো এবং খাবার গিলতে ও সহজে হজম করতে তারা অ্যালকোহল পান করত। ভারতে খাবারের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য দুটোই আছে; তাই (ভারতীয়) খাবারকে পারমাণবিক বর্জ্যের মতো মনে করার প্রয়োজন নেই।’

আরেকজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘কাঁটাচামচ আর ছুরি দিয়ে সিঙাড়া খাওয়া! ভাই তো ভারতীয় নাস্তাটিকে ঔপনিবেশিক করে তুলতেন। সিঙাড়া হলো আঙুল চাটার কূটনীতি, এটি কোনো ৫ স্টার অপারেশন নয়।’

ব্যবহারকারীদের অনেকে আরও হাস্যরসাত্মক উপায়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই যেমন একজন বলেছেন, এই প্রবণতা চলতে থাকলে শীঘ্রই হয়তো দেখা যাবে চা পরিবেশন করা হবে ওয়াইন গ্লাসে।’ তবে কয়েকজন অবশ্য এভাবে সিঙাড়া খাওয়ার পক্ষেও কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে তাদের অভিমত হচ্ছে, খাবারে উদ্ভাবন ও নতুনত্বকে স্বাগত জানানো উচিৎ। 

ইতোপূর্বে, ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় এটিকেট (শিষ্টাচার) বিষয়ক প্রশিক্ষক উইলিয়াম হ্যানসন কলা খাওয়ার সঠিক ও ভুল পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। হ্যানসন মনে করেন, খোসা ছাড়িয়ে কামড় দিয়ে কলা খাওয়ার প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে টেবিলে কাঁটাচামচ ও ছুরি ব্যবহার করে কলা খাওয়া উচিৎ। এভাবে কলা খাওয়াকেই তিনি সঠিক উপায় বলে অভিহিত করেছেন। তার এই পরামর্শও নেটিজেনদের ব্যাপক হাস্যরসের খোরাক জুগিয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি