বিয়েতে বরের সাথে নাচলেন কনে, তারপর উধাও!

আর দশটি সাধারণ বিয়ের মতোই ছিল পল্লবী ও সুনিল কুমার গৌতমের বিয়ের আয়োজন। হিন্দু রীতিতে মালাবদলের পর গভীর রাতে সম্পন্ন হয় তাঁদের শুভ পরিণয়। ‘জয়মালা’ অনুষ্ঠানের পর মঞ্চে এমনকি একসঙ্গে নাচেন বর-কনে। এছাড়া অতিথি অ্যাপ্যায়ন, খাওয়াদাওয়া সব-ই হয়েছে ঠিক যেমনটা হয়ে থাকে একটি বিয়েতে। কিন্তু সকাল হতেই জানা গেল, কনে লাপাত্তা!

না, এটি কোনো ট্র্যাজিকমেডি’র কাহিনী নয়। বাস্তবেই ঘটেছে এমনটা- বিয়ের পর উধাও হয়েছেন কনে। তবে কোনো নির্মাতা চাইলে সহজেই ঘটনাটিকে সিনেমার স্ক্রিপ্টে রুপদান করতে পারেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের উত্তর প্রদেশের বারাবাঁকি জেলায়। পল্লবী ও সুনীল কুমার গৌতমের বিয়ে ঠিক হয় তিন মাস আগে। গত মঙ্গলবার রাতে ৯০ জন বরযাত্রী নিয়ে বরের শোভাযাত্রা পৌঁছায় কনের বাড়িতে।

হিন্দু রীতি অনুসারে সম্পন্ন হয় বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান। মালাবদলের পর বর ও কনে একসাথে মঞ্চে নেচে বিয়ের আনন্দ উদযাপন করেন। দেখে মনে হচ্ছিল, এ যেন বলিউডের নির্মাতা সুরজ বরজাতিয়ার শুটিং সেট।

কিন্তু বিপত্তি বাঁধে বুধবার সকালে ‘বিদায়’-এর আয়োজন শুরু হতেই। হঠাৎ করেই কনের পরিবার উপলব্ধি করে, পল্লবী তার ঘরে নেই। প্রথমে ধরে নেওয়া হয়েছিল, সে হয়তো আশেপাশে কোথাও আছে। ফলে দুই পরিবার কয়েক ঘন্টা ধরে তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে পল্লবীকে। কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজির পর দুপুর গড়িয়ে এলেও পল্লবীর কোনো হদিস মেলে না। ফলে কনেকে ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হন বর সুনিল কুমার।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কনে তার কথিত প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। পুলিশ সন্দেহ করছে যে, বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর বিয়ে বাড়ির হট্টগোল এবং ক্লান্তির সুযোগ নিয়ে রাতেই পালিয়ে গেছেন পল্লবী।

বরের পরিবার ইতোমধ্যেই কনের পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। এ প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ। কনের গতিবিধি সনাক্ত করতে তার মোবাইল ফোনের লোকেশন পর্যবেক্ষণ এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে