সহজে ছড়ায় করোনার নতুন ধরন, আরও যা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

পাঁচ বছর পর আবারও খবরের শিরোনাম করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের এনবি.১.৮.১ ভ্যারিয়েন্টে ১৩ জন আক্রান্তের কথা জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও হংকংসহ অন্যান্য দেশে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে এই এনবি.১.৮.১ এখন চীন ও হংকংয়ে উদ্বেগের মূল কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ধরণ পর্যবেক্ষণ করছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট বলছে, এই মুহূর্তে বিশ্বে মোট করোনা আক্রান্তের ১০ শতাংশ এনবি.১.৮.১ ভ্যারিয়েন্ট। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আগের যেকোনো ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বেশি মারাত্মক বা প্রাণঘাতী- এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে, এটি আরও সহজে ছড়িয়ে পড়ে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এপ্রিলের শেষ দিকে বিশ্বব্যাপী জমা দেওয়া সিকোয়েন্সের প্রায় ১০.৭ শতাংশ ছিল এনবি.১.৮.১। যদিও, তার এক মাস আগে এটি ছিল মাত্র ২.৫ শতাংশ। তারা এরই মধ্যে একে ‘ভ্যারিয়েন্ট আন্ডার মনিটরিং’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। এর মানে, তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে এনবি.১.৮.১। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলছেন, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত করোনা বাড়তে দেখা গেছে। এ সময় নতুন ধরণে অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন।’

বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে ডব্লিউএইচও বলছে, অন্যান্য ধরনের চেয়ে এনবি.১.৮.১ দ্রুত ছড়াতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি মারাত্মক নয়। যুক্তরাজ্যের রেনো স্কুল অব মেডিসিনের নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোলজির অধ্যাপক সুভাষ ভার্মা সিবিএস নিউজকে বলছেন, ‘বিভিন্ন তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে এনবি.১.৮.১ আগের সব ধরণের তুলনায় আরও গুরুতর অসুস্থতার দিকে নিয়ে যাবে না, যদিও এটি দ্রুত ছড়াতে পারে বলে মনে হচ্ছে। 

এর লক্ষণগুলো সাধারণ ওমিক্রন সাবভ্যারিয়েন্টের সাথে মিলে যায়–ক্লান্তি, জ্বর, পেশী ব্যথা ও গলা ব্যথা।

এদিকে, করোনা সতর্কতায় আবারও দেশে জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সকলকে মাস্ক পরার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। শুক্রবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মামুন অর রশিদের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, কোভিড–১৯ সংক্রমণ হারের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনা করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সকলকে মাস্ক পরার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষত বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের এ ধরনের স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 

২০২২ সাল থেকে দেশে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করে। পরের বছর থেকে করোনা রোগী শনাক্তের হার নেমে আসে প্রায় শূন্যের কোঠায়। ফলে মাস্ক পড়ার যে বিধি নিষেধ তাও সে সময় তুলে নেওয়া হয়। এ বছর নতুন করে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে অতিসংক্রমণশীল এই ভাইরাস।

সম্প্রতি রাজশাহীতে কয়েকজনের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গত সোম ও মঙ্গলবার দুই দিনে জেলাটিতে ২৬টি নমুনার ১৩টিতেই করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে। এ হিসেবে আক্রান্তের হার ৫০ শতাংশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, কোভিডের আগেকার লক্ষণগুলোর মতোই কিছু লক্ষণ এবারও দেখা যাচ্ছে। সেগুলোই নজরে রাখতে হবে। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে একটানা কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ঘোরা ও বমি ভাব, কনজাংটিভাইটিস ও বিভ্রান্তি। বেশিরভাগ ব্যক্তি বাড়িতে যত্নের মাধ্যমে সেরে ওঠেন। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে দ্রুত।