সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়ার ১৫ লাখ মানুষ

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ঝুঁকিতে পড়বে অস্ট্রেলিয়ার ১৫ লাখ মানুষ। অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চল, প্রত্যন্ত এলাকা এবং উপশহরগুলো বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দেশটির প্রথম জাতীয় জলবায়ু ঝুঁকি মূল্যায়ন বিষয়ক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে তা অব্যাহত থাকলে, ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় এলাকার ১৫ লাখ অস্ট্রেলিয়ানের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, দাবদাহ, খরা ও দাবানলের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ আরও ঘনঘন হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। 

৭২ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের তিনটি পরিস্থিতি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি এবং ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি– পর্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,  ‘এটি স্বাস্থ্যসেবা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, প্রাকৃতিক প্রজাতি ও প্রতিবেশব্যবস্থা এবং প্রাথমিক শিল্পগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া জরুরি সেবাদাতাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।’

মাথাপিছু দূষণের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়া। এরই মধ্যে দেশটি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উষ্ণায়ন পেরিয়ে গেছে। আর তাপমাত্রা যদি ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, সিডনিতে তাপজনিত মৃত্যুর হার ৪শ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে এবং মেলবোর্নে তা প্রায় তিনগুণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস বাউয়েন জানান, অস্ট্রেলিয়ানরা ইতোমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বেঁচে আছে। এ সময় যথাসম্ভব উষ্ণায়ন রোধ করে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ঙ্কর প্রভাব থেকে রক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।