সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত দ্বন্দ্বে বিধ্বস্ত সিরিয়ার বিনিয়োগ পথকে সুগম করতেই এ পদক্ষেপ বলে জানা গেছে।
১৭ ডিসেম্বর কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে একটি বিল উত্থাপন করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে ভোটাভুটির ফলাফল অনুমোদন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন সিরিয়ার ওপর ডজনখানেক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল মার্কিন আইনসভা। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং বিনিয়োগ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞাও ছিল। সিরিয়ায় ক্ষমতা পরিবর্তনের পর সৌদি আরব এবং তুরস্ক নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সুপারিশ করেছিল।
তবে সব নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সিরিয়া।
সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে সিরিয়ার জনগণের ওপর ভোগান্তি থেকে বেরিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য সত্যিকারের সুযোগ পেলেন তারা।’
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের জুলাইয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন তাঁর ছেলে বাশার আল আসাদ। দীর্ঘ ২৪ বছর এই পদে থাকার পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর জোট হায়াত তাহরির আল শামসের (এইচটিএস) অভিযানে পদত্যাগ করেন। এরপর সপরিবারে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন তিনি। সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হন আহমেদ আল শারা, যিনি একসময় জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়দার সিরিয়া শাখার নেতা ছিলেন।