ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ উসকে দিতে দেশটিতে ডলারের সংকট তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এমন দাবি করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে রিয়ালের দরপতন ঘটাতে কাজ করছিল মার্কিন অর্থ বিভাগ। এ লক্ষ্যে তেল শিল্পের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।
রয়টার্স লিখেছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ ও তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে একের পর এক বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে রিয়ালের ব্যাপক পতন ও উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিতে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে নামেন। যা পরে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয় খামেনি সরকার। মার্কিন-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থার দাবি, ব্যাপক বিক্ষোভ-সহিংসতায় প্রাণ হারায় ৭ হাজারের বেশি মানুষ।
শুরু থেকেই খামেনি প্রশাসনের দাবি, ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ধীরে ধীরে সামনে আসছে ইরানের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় মার্কিন নীলনকশার খবর।
সম্প্রতি বিক্ষোভ উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী। স্কট বেসেন্টের দাবি, ইরানি রিয়ালের মান কমিয়ে বিক্ষোভ উসকে দিতে ইরানে ডলারের সংকট তৈরি করেছিল ওয়াশিংটন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেল রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং একসঙ্গে সীমিত হওয়ায় ইরানে তীব্র ডলার সংকট দেখা দেয়। জানুয়ারিতে রিয়ালের মান নেমে প্রতি ডলারে ১৫ লাখে দাঁড়ায়, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৭ লাখ আর বছরের মাঝামাঝি ছিল ৯ লাখ। এই বড় পতনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। আর খাদ্যপণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে গড়ে বাড়ে ৭২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থানকে জটিল করতে পারে। তবে শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব সরানো কঠিন। বরং দারিদ্র বাড়লে মানুষ বিপ্লবের বদলে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।