রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বেইজিং সফরে চীন-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদারের ইঙ্গিত মিলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পরপরই পুতিনের বেইজিং সফর বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন শক্তির সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে। তাদের মতে, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ার অভিন্ন লক্ষ্য থেকেই ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে দুই দেশের। রয়টার্স জানিয়েছে এসব খবর।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফর এমন এক সময় হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক রাজনীতিতে চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে পুতিনের ২ দিনের এ সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বেইজিং সফর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সেটিই পুতিনকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে যে, চীন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে সরে আসছে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর রাশিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি চীনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি, প্রযুক্তি এবং ড্রোন উৎপাদনের মতো খাতে চীনা সহযোগিতা মস্কোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে মস্কো-বেইজিং সম্পর্ককে শুধুই নির্ভরশীলতার দৃষ্টিতে দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক। তাদের মতে, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ার অভিন্ন লক্ষ্য থেকেই আরও কাছাকাছি আসছে দুই দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্ক যেখানে প্রতিযোগিতা ও অবিশ্বাসের দিকে যাচ্ছে, সেখানে রাশিয়া ও চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনীতি, জ্বালানি, অর্থনীতি, প্রযুক্তি থেকে শুরু করে সামরিক সমন্বয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই বাড়ছে দুই দেশের সহযোগিতা।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের অন্যতম বড় কৌশল এখন মস্কো ও বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা দুর্বল করা। তবে বাস্তবে পশ্চিমা চাপই বরং রাশিয়া ও চীনকে আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।