ইবোলার প্রাদুর্ভাব নিয়ে জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

কঙ্গোতে এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সূচনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা। ভাইরাসের জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি ২০০৭ বা ২০১২ সালের প্রাদুর্ভাবের ধারাবাহিকতা নয়। বরং বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশের পরই এর সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। 

প্রাদুর্ভাব শনাক্তে কয়েক মাস সময় লাগায় ভাইরাস সংক্রমণের গতি উদ্বেগজনক করে তুলেছে। নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের শুরুটা কোথায়, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকরা।

ডিআর কঙ্গো ও উগান্ডার ২২ জন রোগীর শরীর থেকে নেওয়া ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করেন বিজ্ঞানীরা। এবারের প্রাদুর্ভাবের ভাইরাসটি বুন্ডিবুগিও ধরনের হলেও গবেষণায় এর জিনগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এটি পূর্বের প্রাদুর্ভাব থেকে সরাসরি সংক্রমিত হয়নি। 

বরং একই ধরনের ভাইরাস কোনো প্রাণী থেকে নতুন করে মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে। তবে কোন প্রাণী থেকে এই সংক্রমণ শুরু হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, নতুন প্রাদুর্ভাবের ভাইরাসটি ইবোলার নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট নয়। এটি পরিচিত বুন্ডিবুগিও ভ্যারিয়েন্টই, যা এবার নতুন করে প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে এসেছে। তবে প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়ার আগেই কয়েক মাস ধরে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এটিই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। 

ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ না থাকায়  সংক্রমণের গতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। রোগীদের স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে পানিশূন্যতা ও অন্যান্য জটিলতা নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন প্রধান ও একমাত্র চিকিৎসা হয়ে উঠেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন ইবোলার এবারের প্রাদুর্ভাবে এবং মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে দুই হাজার, যাদের মধ্যে আছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। 

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সংক্রমণ থামানোর প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। মানুষ ও প্রাণীর সংস্পর্শস্থলে নজরদারি, দ্রুত জিনগত পরীক্ষা, এবং বিভিন্ন ধরনের ইবোলা শনাক্তের সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি।