বুথফেরত জরিপে ভোটারদের মত, আমেরিকার গণতন্ত্র হুমকির মুখে 

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটারের মতে, মার্কিন গণতন্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। ইডিসন রিসার্চের জাতীয় এক্সিট পোলের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দেওয়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটারই আমেরিকার গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এবার মার্কিন ভোটারদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র ও অর্থনীতি শীর্ষে ছিল। এরপর ছিল গর্ভপাত ও অভিবাসন।

জরিপে দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন, আমেরিকার গণতন্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ বলছেন এটি নিরাপদ। ডেমোক্র্যাট কমলা হ্যারিস ও রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণার পর উদ্বেগজনক এই ফলাফলটি দেখা যায়।
 
এবারের নির্বাচনি প্রচার নজিরবিহীন ঘটনায় পূর্ণ ছিল। ট্রাম্পকে দুবার হত্যাচেষ্টা যার মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আকস্মিক সরে যাওয়া ও হ্যারিসের দ্রুত উত্থান। আর তারপর দুই প্রার্থীর কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস।

এক্সিট পোলের একটি বিশেষ দিক হলো, এতে যারা অংশ নিয়েছেন তারা সকলেই এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে মতামত জরিপে দেখা গেছে, বিজয়ী নির্ধারণের জন্য সম্ভাব্য সাতটি রাজ্য–অ্যারিজোনা, জর্জিয়া, মিশিগান, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া এবং উইসকনসিনে প্রার্থীরা প্রায় সমানে সমান অবস্থানে ছিলেন।

এবারের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যিনি জিতুক না কেন তা ইতিহাস তৈরি করবে। ৬০ বছর বয়সী কমলা হ্যারিস নির্বাচনে জয় পেলে তিনি হবেন প্রথম নারী,  কৃষ্ণাঙ্গ এবং দক্ষিণ এশীয় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। আবার ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে দুবার অভিশংসিত এবং প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি হবেন এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরে প্রথমবারের মতো ক্ষমতা হারিয়ে হোয়াইট হাউসে ফেরা প্রেসিডেন্ট।