কমলার প্রশংসা করলেন ন্যান্সি, দুষলেন বাইডেনকে

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের জন্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দুষেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। পাশাপাশি এই নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস খুব ভালো লড়াই করেছেন বলে প্রশংসাও করেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যান্সি পেলোসি এসব মন্তব্য করনে। পেলোসি বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেন যদি আরও আগে সরে দাঁড়াতেন, তাহলে ডেমোক্র্যাটরা আরও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় ও সুযোগ পেত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী প্রচার ও বিতর্কে অংশ নিতে হয়। ওই সময়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেন দ্বিতীয়বারের জন্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। ফলে ডেমোক্রেটিক পার্টি আর কোনো প্রার্থী নির্বাচন করেনি। কিন্তু নির্বাচনের চার মাস আগে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক বিতর্কে জো বাইডেন বাজেভাবে পরাজিত হলে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন জো বাইডেন।

জো বাইডেন সরে দাঁড়ানোর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে ডেমোক্রেটিক পার্টি।

এই পুরো প্রসঙ্গ টেনে ন্যান্সি পেলোসি ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে কমলা হ্যারিসকে মনোনয়ন দেওয়ার পেছনে জো বাইডেন দায়ী। তিনি আরও আগে সরে দাঁড়ালে কমলা আরও বেশি মানুষের কাছে যেতে পারতেন এবং জনসমর্থন আদায় করতে পারতেন।’

এরপর কমলা হ্যারিসের প্রশংসা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক এই স্পিকার। তিনি বলেন, ‘কমলা হ্যারিস খুব অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মধ্যে আশা জাগিয়ে তুলেছেন। প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে কমলা জিততেন বলে মনে করি। তিনি যথেষ্ট সময় পাননি। আরও বেশি সময় পেলে তিনি আরও বেশি মানুষের কাছে যেতে পারেতন এবং নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারতেন।’

পেলোসি বলেন, বাইডেন কমলা হ্যারিসকে দ্রুত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় সে সময় প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। যদি সবকিছু আরও আগে ঘটত, তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারতো।

গত ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে হারিয়ে ৪৭তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।