ইউক্রেনকে চাপে রেখে পুতিনকে খুশি করছেন ট্রাম্প: বাইডেন

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইউক্রেনকে চাপে রেখে ভ্লাদিমির পুতিনকে খুশি করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার ডেলাওয়্যারে নিজ বাসভবনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি। 

হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর এই প্রথম সরাসরি কোনো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন জো বাইডেন। সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, ‘রাশিয়ার জন্য ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে ইউক্রেনের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা হলো “আধুনিক যুগের তোষণনীতি”। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বাস করেন ইউক্রেন রাশিয়ার অংশ। আর কেউ যদি মনে করেন কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিলে শান্তিচুক্তি সম্ভব, তাহলে তিনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন।’ 

এই সপ্তাহে মিত্রশক্তিগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের ৮০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। আর এমন সময়ে বাইডেন বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ক ভেঙে পড়া নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন, এটি বিশ্বের আধুনিক ইতিহাস বদলে দিতে পারে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মন্তব্যের বিষয়েও বাইডেনকে প্রশ্ন করা হয়। যেখানে বলা হয়েছে– ইউক্রেনকে শান্তি চুক্তি অর্জনের জন্য কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হবে, যার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হবে। জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন বক্তব্যকে ‘আধুনিক যুগের তোষণনীতি’ বলে আখ্যা দেন বাইডেন। এমনকি ট্রাম্পের নেতৃত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা এবং নেতৃত্বের প্রতি ইউরোপ আস্থা হারাবে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বিবিসির সাক্ষাৎকারে ইউক্রেন নিয়ে বাইডেনের নিজস্ব নীতির পাশাপাশি ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চার মাসেরও কম সময় আগে বাইডেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁর কি আরও আগেই সরে দাঁড়ানো উচিত ছিল– এমন প্রশ্নের জবাবে বাইডেন বলেন, ‘আমি মনে করি না তাতে কোনো পার্থক্য হতো। আমি তখনই সরে দাঁড়িয়েছি, যখন দলের একজন ভালো প্রার্থী ছিল। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটছিল যে সরে আসা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবুও আমি মনে করি, সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। যদিও সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন ছিল।’