মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের প্রকাশ্য বিবাদের পর তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে হোয়াইট হাউজের সহযোগীরা শুক্রবার দুজনের ফোনালাপের ব্যবস্থা করেছেন। তবে হোয়াইট হাউজ পরে জানিয়েছে, ইলন মাস্কের সঙ্গে আজ (শুক্রবার) ফোনে কথা বলতে ইচ্ছুক নন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এমনকি মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলার প্রচারে সহায়তার জন্য ট্রাম্প এ বছরের শুরুর দিকে যে লাল টেসলা গাড়ি কিনেছিলেন, সেটিও তিনি এখন বিক্রি করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। ঊর্ধ্বতন হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসির মার্কিন পার্টনার সিবিএস নিউজ বলছে, লাল এই টেসলা গাড়িটি হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরেই দাঁড় করিয়ে রাখা আছে। ট্রাম্প এখন এই গাড়ি থেকে মুক্তি পেতে চাইছেন। এটি তিনি বিক্রি কিংবা দান করে দিতে চান।
শুক্রবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি মাস্কের সঙ্গে সম্প্রীতি ফেরাতে কোনও ধরনের ফোনালাপের আশা গুঁড়িয়ে দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ধনকুবের ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন চরম তিক্ত। যে মাস্ককে এই কিছু দিন আগে জড়িয়ে ধরেছিলেন ট্রাম্প, যাঁর জন্য হোয়াইট হাউসে গড়ে দিয়েছিলেন আলাদা দপ্তর, সেই তিনিই হয়ে উঠেছেন তাঁর সরকারের পথের ‘কাঁটা’! মাস্কের সংস্থাগুলোর ভর্তুকি বাতিল থেকে শুরু করে সরকারি চুক্তি বাতিল—একের পর এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু মাস্কও থামছেন না। পাল্টা আক্রমণ করেই যাচ্ছেন, যে আক্রমণ হচ্ছে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির ফলে এক ধাক্কায় মাস্কের সংস্থার শেয়ার পড়ে গেছে। মানুষজন টেসলার শেয়ার বিক্রি করে দিতে দু’বার ভাবছে না। কিন্তু সেই আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অবস্থানে অনড় স্পেসএক্সের মালিক। তিনি বলছেন, ‘আমি সাহায্য না করলে ট্রাম্প আমেরিকার মসনদেই বসতে পারতেন না।’