মামদানির পথে কাঁটা বিছিয়ে দিতে পারে যে চ্যালেঞ্জগুলো  

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এবার আসল চ্যালেঞ্জের মুখে জোহরান মামদানি। তহবিল সংকট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা তাঁর পথে বড় বাধা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে মামদানির স্বচ্ছ ইমেজ তাঁর রাজনীতিতে শক্তি যোগাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়তায় ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। আজ নিউইয়র্ক শহরের একটি পরিত্যক্ত সাবওয়েতে পবিত্র কোরআন হাতে মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন তিনি। তাঁর এই যাত্রা শুরু হয়েছিলো গত বছর থেকেই। মামদানি নিজের পরিচয় দেন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে। আর এই শব্দ নিয়েই বিশেষ আপত্তি রয়েছে রিপাবলিকানদের।

নির্বাচিত হওয়ার পরও এই পরিচয় মামদানির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, যে লক্ষ্য নিয়ে মেয়র হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন মামদানি, তা বাস্তবায়নে তহবিল জোগাড় করা কষ্টসাধ্য হবে তাঁর জন্য। আর যথেষ্ট তহবিল পেলেও তাঁর একার পক্ষে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করা সম্ভব নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

নির্বাচনি প্রচারে নিউইয়র্কের বিভিন্ন বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অভিজাত শ্রেণির সমালোচনায় মুখর ছিলেন মামদানি। এক্ষেত্রে নিজের কাজগুলো কার্যকর করতে তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় মামদানিকে অনেকটাই ছাড় দিতে হবে। তবে এ কাজটি হবে মামদানির নীতিবিরুদ্ধ। 

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত এই মেয়রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের পুরোটা সময় মামদানির বিরোধিতা করে গেছেন ট্রাম্প। এমনকি নিউইয়র্ক সিটির জন্য ফেডারেল তহবিল সীমিত করার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ফলে মামদানির জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক লড়াই আরও কঠোর হবে বলে মত বিশ্লেষকদের।  

তবে মামদানির জন্য বড় একটি সুবিধা হলো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিকদের মতো তাঁর নামে নেই কোনো বিতর্ক। তবে নতুন এই রাজনৈতিক জীবনে নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে তিনি প্রতিকূল পরিস্থিতি কতটা সামাল দিতে পারেন তাই দেখার পালা বলে মত বিশ্লেষকদের।