এক ঝটিকা অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তো আটক করে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু এরপর ভেনেজুয়েলাকে নিয়ে তাদের পরিকল্পনা কী? ভেনেজুয়েলায় কী হতে যাচ্ছে? এ প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
তা মাদুরো সরে গেলে যিনি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি হতে পারেন বলে গত কয়েক মাসে শোনা যাচ্ছিল, সেই মাদুরো-বিরোধী ও গত বছরে শান্তিতে নোবেলজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো কোথায়? মাদুরোর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলা স্বাধীনতা পাচ্ছে বলে উচ্ছ্বাস জানিয়েছিলেন মাচাদো, কিন্তু এরপরই যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে মাচাদোকে তাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করছেন না!
কারণ কী? এর পেছনের কারণ তুলে এনেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট। হোয়াইট হাউজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে সূত্র হিসেবে জানিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মাচাদো শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন বলেই ট্রাম্পের তাঁকে সহ্য হচ্ছে না।
শান্তিতে নোবেল জেতার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহের কথা সম্ভবত এখন সর্বজনবিদিত। কিন্তু গত বছর শেষ পর্যন্ত মাচাদোই জিতেছেন নোবেল। তখন অবশ্য ট্রাম্পই জানিয়েছিলেন, পুরস্কার জেতার পর মাচাদো তাঁকে ফোন করে বলেছেন, ‘এই পুরস্কার আপনারই প্রাপ্য!’
কিন্তু মাচাদো তখন নোবেল পুরস্কার প্রত্যাখ্যান কেন করেননি, এটাই যেন ট্রাম্পের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে। হোয়াইট হাউজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যক্তিকে সূত্র জানিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন তেমনই জানাচ্ছে।
ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন বলেছেন জানিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, মাচাদো ওই নোবেল পুরস্কার নিতে স্বীকৃতি জানানোই ছিল ট্রাম্পের চোখে তাঁর ‘চূড়ান্ত পাপ!’ অন্যজন বলেছেন জানিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে লেখা, নোবেল পুরস্কার নেওয়ার কারণেই ট্রাম্পের বিবেচনায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড় থেকে ছিটকে গেলেন মাচাদো।
‘তিনি (মাচাদো) যদি পুরস্কারটা নিতে অস্বীকৃতি জানাতেন, বলতেন যে “আমি এই পুরস্কার নিতে পারব না, কারণ এটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাওনা”, তাহলে আজ তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকতেন’ – হোয়াইট হাউজ সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির একজন বলেছেন জানিয়ে তাঁকে উদ্ধৃত করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মাচাদোকে নিয়ে কেন আলোচনা
২০২৫ সালে শান্তিতে নোবেল জেতার সময় থেকেই বিশ্বব্যাপী আলোচনায় উঠে আসেন মাচাদো। সেটা শুধু নোবেল জেতার কারণেই নয়, ভেনেজুয়েলায় মাদুরো বিরোধিতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দেশের প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ সমর্থনের কারণেও। এমনকি তিনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে উৎখাত করতে আহ্বান জানিয়েছেন বলেও অভিযোগ আছে।
শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যখন মাদুরোকে আটক করেই নিয়ে গেছে, ভেনেজুয়েলার পরবর্তী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে আবার আলোচনায় এসেছে মাচাদোর নাম। মাচাদো নিজেও মাদুরোর গ্রেপ্তারের পর উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলায় স্বাধীনতা এসেছে জানিয়ে। কিন্তু মাচাদোর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো স্বপ্ন থেকে থাকলে আপাতত তাতে জল ঢেলে দিয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। মাচাদোকে ‘দারুণ নারী’ জানিয়েও ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় মাচাদোর যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই।
মাচাদো এই মুহূর্তে নরওয়ের অসলোতে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে পালিয়ে অসলোতে নোবেল পুরস্কার নিতে গিয়েছিলেন মাচাদো। সে সময়ে মাচাদো সরাসরিই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করেছে বলেই মাদুরোর প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নানা কায়দায় ভেনেজুয়েলা থেকে বের হতে পেরেছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন নিয়ে ভাবনা কী?
মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হাতে আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। কিন্তু সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই মুহূর্তে তাঁদের মূল মনোযোগ ভেনেজুয়েলাকে ‘ঠিক করার’ দিকে, নির্বাচনের দিকে নয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেইট মার্কো রুবিও-ও বলেছেন, এই মুহূর্তে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন দেওয়া ‘অকালপক্ক’ সিদ্ধান্ত হবে। ট্রাম্প তো এমনও বলেছেন, ভেনেজুয়েলানরা ‘ঠিকমতো না চললে’ আরেক দফা অভিযানের কথা ভাববেন তিনি।