পোপ লিও'র সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়ানো এবং নিজেকে ‘যিশু’ হিসেবে উপস্থাপন করে এআই ছবি (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি) পোস্ট করার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার নিজের কার্যালয় (ওভাল অফিস) থেকে বাইবেল পাঠ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প।
বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের সরকারি কর্মকাণ্ডে ধর্মকে, বিশেষ করে খ্রিস্টধর্মকে যুক্ত করার ধারাবাহিকতায় ‘আমেরিকা রিডস দ্য বাইবেল’ শীর্ষক এক বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন ট্রাম্প। সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ওভাল অফিস থেকে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে পবিত্র বাইবেল পাঠ করবেন তিনি। আয়োজকদের তরফে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটাই জানানো হয়েছে।
গত সপ্তাহজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি বড় ধরনের ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। প্রথমত, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ চতুর্দশ লিও’র শান্তিবাদী অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পোপ লিও’র ভক্ত নন।
দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে যিশু খ্রিস্টের আদলে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি পোস্ট করে তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে নিজের কট্টর সমর্থকদের চাপে সেই ছবি মুছে ফেললেও তাতে বিতর্ক থামেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সেই ক্ষত মুছতেই ওভাল অফিস থেকে এবার বাইবেল পাঠের উদ্যোগ নিয়েছেন ট্রাম্প।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বাইবেলের ‘সেকেন্ড ক্রনিকলস ৭:১৪’ অংশটি পাঠ করবেন। এই অংশে মূলত জনগণের বিনয়, প্রার্থনা এবং পাপ থেকে মুক্তির মাধ্যমে দেশ ও ভূমিকে ‘সুস্থ’ করার কথা বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গার সময়ও ট্রাম্প সমর্থকরা এই বিশেষ শ্লোকটি ব্যবহার করেছিলেন।
প্রেসিডেন্টের এই বাইবেল পাঠ কর্মসূচিতে প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলসসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই বিশেষ ভিডিও বার্তায় যুক্ত হবেন।
সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মার্গারেট সুসান থম্পসন সিএনএন-কে বলেন, আমেরিকান নেতারা ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করতেই পারেন, তবে সমস্যা হয় যখন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকে পুরো জাতির জন্য বাধ্যতামূলক বা আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়।
ট্রাম্পের এই বাইবেল পাঠের সিদ্ধান্তটি তাঁর ইভানজেলিকাল খ্রিস্টান ভোটব্যাংককে পুনরায় সংহত করার একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকে।