যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিয়েছেন, এফডিএ (ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অনুমোদিত এবং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যটির লাইসেন্সপ্রাপ্ত গাঁজাকে কম ঝুঁকিপূর্ণ মাদক হিসেবে নতুনভাবে শ্রেণিবিন্যাস করতে হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস লিখেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে গাঁজার চিকিৎসাগত ব্যবহার নিয়ে গবেষণা সহজ হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের গবেষণাকে সমর্থন করা ইনফ্লুয়েন্সারদের সমর্থনও পেতে পারে প্রশাসন।
তবে এই সিদ্ধান্তের পর বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। অনেকের অনুমান, এতে তরুণ প্রজন্ম গাঁজার ব্যবহারে উৎসাহী হয়ে উঠবে।
এক্সিওস বুধবার প্রথম জানায়, প্রশাসনের এক কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে — ট্রাম্প প্রশাসন গাঁজার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তনের পথে হাঁটতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক পোস্টে বলেন, অঙ্গরাজ্য ও এফডিএ অনুমোদিত গাঁজাকে ‘স্কেজিউল ১’ থেকে ‘স্কেজিউল ৩’-এ নামিয়ে আনার পাশাপাশি সব ধরনের গাঁজার শ্রেণিবিন্যাস পুনর্বিবেচনার জন্য দ্রুত শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই শুনানি ২৯ জুন শুরু হবে। এর মাধ্যমে ফেডারেল আইনে গাঁজার অবস্থান নিয়ে আরও বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।
ব্ল্যাঞ্চ বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপগুলোর কারণে গাঁজার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে আরও উদ্দেশ্যভিত্তিক ও কঠোর গবেষণা সম্ভব হবে। এতে রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং চিকিৎসকেরা আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
এতে কি সাধারণ মানুষের মধ্যে গাঁজায় আসক্তি বাড়বে?
এক্সিওস তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, গাঁজার নতুন শ্রেণিবিন্যাস যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার গবেষণাসংক্রান্ত বাধা কমাবে। ফলে এর সম্ভাব্য চিকিৎসা ব্যবহারের ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা সহজ হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে গাঁজা বৈধ হয়ে যাবে না। গাঁজা রাখার অপরাধে যারা কারাগারে আছেন, তাদের সাজায়ও এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ট্রাম্পের উদ্যোগ
গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে গাঁজার শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। এতে তিনি বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে দায়িত্ব দেন। সে সময় ট্রাম্প বলেন, ‘তীব্র ব্যথা, জটিল রোগ, আক্রমণাত্মক ক্যানসার, খিঁচুনি এবং স্নায়বিক সমস্যায় ভোগা মার্কিন রোগীদের অনুরোধেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’
শ্রেণিবিন্যাসের কারণে কী হবে
এর আগে গাঁজাকে ‘স্কেজিউল ১’ মাদক হিসেবে ধরা হতো — যে তালিকায় হেরোইন, এলএসডি ও এক্সট্যাসির মতো মাদক রয়েছে। নতুন শ্রেণিবিন্যাসে এটি কেটামিন ও স্টেরয়েডের মতো ‘স্কেজিউল ৩’-এর সঙ্গে একই স্তরে আসবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মতে, কোনো মাদকের শ্রেণি নির্ধারণ করা হয় চিকিৎসায় সেটির ব্যবহার, অপব্যবহারের সম্ভাবনা এবং নিরাপত্তা বা নির্ভরতার ঝুঁকির ভিত্তিতে।