ফের ইউক্রেন যুদ্ধে নজর দিচ্ছেন ট্রাম্প, শঙ্কায় ইইউ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে পুনরায় মনোযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এদিকে এ যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা চিন্তায় ফেলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের। ওয়াশিংটন-মস্কো সরাসরি আলোচনা শুরু হলে ইইউ জোট আবারও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তাঁদের।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় আলোচিত সেই বৈঠক।

মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে পুনরায় মনোযোগ দেবে ওয়াশিংটন। মস্কো-কিয়েভ উভয়েই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী বলেও মত তাঁর।

ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা উদ্বিগ্ন করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের। ওয়াশিংটন-মস্কো সরাসরি আলোচনা শুরু হলে ইইউ জোট আবারও কোণঠাসা হয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তাঁদের। কারণ, এমন আলোচনায় ইউক্রেন বা ইউরোপের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয় না।

যেকোনো শান্তি আলোচনায় ইউরোপকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। কিয়েভকে সমর্থনের বেশিরভাগ বোঝা এখন ইউরোপের ওপরই বর্তায় বলে যুক্তি দেন তিনি।

এদিকে ভলোমিদির জেলেনস্কি রুশ প্রেসিডেন্টকে সাক্ষাতের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন—এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের মুখপাত্র জানান, এই ধরনের প্রস্তাব জানানোর জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মাধ্যমের অস্তিত্ব নেই। জেলেনস্কি যদি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তবে মস্কোতে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে বলেও জানান দিমিত্রি পেসকভ।

যুদ্ধক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পশ্চিমাদের অব্যাহত সমর্থন নিশ্চিত করার উপর জোর দিচ্ছে ইউক্রেন।

বিপরীতে বরাবরই সংঘাত স্থগিতের বিরোধিতা করে আসছে মস্কো। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কেবল কিয়েভকে পুনরায় অস্ত্রসজ্জিত হওয়ার সময় দেবে বলে মত তাদের।