ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প

ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত

ভূমিকম্পের তীব্রতা কমে এলেও কারাকাস ও লা গুয়াইরার বাসিন্দাদের চোখে-মুখে এখনও আতঙ্ক। ধ্বংসস্তূপের নিচে হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো ভেনেজুয়েলায়। সরকারি সাহায্য ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।

৩৯ সেকেন্ডের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে গেছে রাজধানী কারাকাস ও বন্দর নগরী লা গুয়াইরা। তবে ভয়াবহ সেই ভূমিকম্পের ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে ভেনেজুয়েলাবাসী।

অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের তাঁবু ও খোলা চত্বরে আশ্রয় নিয়েছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো। প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে উঠলেও ভয়াবহ সেই স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরাদের একজন সুজানা সাভেদ্রা। কারাকাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের চারতলায় থাকতেন তিনি।

ভূমিকম্পে ভবনটির সামনের অংশ অনেকটা অক্ষত থাকলেও, পেছনের দিক পুরোটাই ধসে পড়ে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার পান সুজানা। একই ভবন থেকে উদ্ধার হয়েছে ছয়জনের মৃতদেহ।

কারাকাসের বাসিন্দা সুজানা সাভেদ্রা বলেন, ভূমিকম্প শুরুর ঠিক কয়েক সেকেন্ড আগে আমি শোবার ঘর ছেড়ে বসার ঘরে যাই। পিলারের নিচে দাঁড়িয়ে নিজের চোখের সামনেই রান্নাঘর ও শোবার ঘরটা ধসে পড়তে দেখেছি।

গত বছর সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যান তিনি। পেনশনের জমানো টাকায় কেনা গৃহস্থালি সামগ্রীসহ হারিয়েছেন সবকিছুই।

সুজানা সাভেদ্রা বলেন, আমি ভাগ্যবান যে এখনও বেঁচে আছি। জাগতিক জিনিসপত্র ফিরে পাওয়া যাবে, কিন্তু এই জীবন একবার চলে গেলে আর ফিরে পাব না।

কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত অনেক ভবনকে বসবাসের জন্য অনিরাপদ ঘোষণা করায় হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আধুনিক সরঞ্জামের অভাব এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহযোগিতার অভাবে উদ্ধারকাজ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ১০০টিরও বেশি ভবন ধসে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো। দুর্যোগের পুনর্গঠনের ব্যয় এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্পে দেশটির জিডিপির প্রায় ১ থেকে ৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।