ইরানের পর এবার কিউবায় সরকার পরিবর্তনের ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে নির্ভরযোগ্য নতুন নেতৃত্ব খুঁজছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। তবে ভেনিজুয়েলার মতো কিউবায় বাস্তববাদী নেতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
জানুয়ারিতে ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে সে সময়ের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় দেলসি রদ্রিগেজকে।
মার্কিন কর্মকর্তারা রদ্রিগেজকে একজন বাস্তববাদী নেতা হিসেবে দেখেছিলেন, যিনি নির্বিঘ্নে ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারবেন এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন।
এবার কিউবার শাসনব্যবস্থার নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর তাই হন্যে হয়ে কিউবার বর্তমান বা সাবেক একজন কর্মকর্তার খোঁজ করছে ওয়াশিংটন, যাঁকে হাভানার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে রাজি করানো যেতে পারে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন হলো, কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি ভেনিজুয়েলার চেয়ে ইরানের সঙ্গে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তাদের ধারণা, কিউবায় এমন কোনো বাস্তববাদী বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া বা ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রদবদল ঘটানো ভেনিজুয়েলার তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিউবার প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো যদি মার্কিন বাহিনীর হাতে আটক হন বা বর্তমান নেতৃত্ব যদি ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে দেশটির ক্ষমতা গ্রহণে প্রস্তুত হবেন—এমন কর্মকর্তা খুবই কম আছেন। বরং কিউবায় যারা সম্ভাব্য উত্তরসূরি, তাঁরা ইরানের মতোই আরও কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন।
কিউবা তার অর্থনীতিকে আরও উদার করবে, এমনটাই চাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের। এর মাধ্যমে মার্কিন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজার উন্মুক্ত হবে এবং ওয়াশিংটন থেকে হাভানার তেল ক্রয় বাড়বে। এ ছাড়া রাশিয়া ও চীনের গোয়েন্দা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কিউবা দেশ থেকে বিতাড়িত করবে, এমনটাও চায় ট্রাম্প প্রশাসন।