জম্মু-কাশ্মীরে গোলাবারুদ, বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ৮টি ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সবগুলো হামলায় প্রতিহত করা হয়েছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, জম্মুতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং শহর জুড়ে আকাশ থেকে সাইরেন বাজছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ওই প্রত্যক্ষদর্শী কমপক্ষে ১৬ বস্তু জুম্মু বিমানবন্দরের কাছ পড়তে দেখেছেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানিয়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে মার্কেট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষজন দৌঁড়াতে শুরু করে। পুরো শহর এখন বিদ্যুতহীন হয়ে পড়েছে। শহরজুড়ে সাইরেন বাজছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টার দিকে ভারতের জম্মুতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। জম্মু বিমানবন্দরকে উদ্দেশ করে এই আক্রমণ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পাশাপাশি আখনুর, সাম্বা, বারামুল্লা, কুপওয়ারাতেও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমে। সীমান্তের কাছের এই এলাকাগুলোতে সাইরেন বাজানোর পাশাপাশি তখনই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী ভারতের ওই হামলাকে ‘ফ্যান্টম ডিফেন্স’ বলে অভিহিত করে জানিয়েছেন, ভারত সরকারকে ‘সিনেমা’ থেকে বাস্তব জগতে আসতে হবে যেখানে আমরা বাস করি।
সামরিক মুখপাত্র আরও বলেছেন, ‘পাকিস্তান যখন ভারতে হামলা চালাবে, তখন এর প্রতিধ্বনি সর্বত্র শোনা যাবে।’
এই হামলার ফলে জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব, রাজস্থানসহ ১৫ শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। একইসাথে দেশটির দাবি, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে দেশটির বেশ কয়েকটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান তিনটি সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সবগুলোই প্রতিহত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহত হয়নি।
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের বাসিন্দাদের নিরাপদে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। কাউকে অপ্রয়োজনে ভ্রমণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। অযথা আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছে দেশটির পুলিশ।
এর আগে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরসহ দেশটির কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দেশটির অন্তত ৬টি স্থানে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৩১ জন। আহত অর্ধশতাধিক মানুষ।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, তারা এসব হামলা চালিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর-ই-তায়েবা (এলইটি) ও জইশ-ই-মোহাম্মদের (জেইএম) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশটির পাঞ্জাবের ভাওয়ালপুরে জেইএমের ঘাঁটি এবং একই প্রদেশের মুরিদকে শহরে এলইটির আস্তানাসহ নয়টি স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
ভারতের হামলার পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, ‘ভারতের “কাপুরুষোচিত” হামলার জবাব দেওয়া হয়েছে। পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার মাধ্যমে হামলার জবাব দিয়েছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।’ পাকিস্তানের ওপর হামলা চালিয়ে ভারত ‘ভুল করেছে’ এবং এর জন্য ‘তাদের মূল্য দিতে হবে’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।